গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নয়া অধ্যায়! মেয়ের বক্তব্যেই মন্ত্রিত্ব হারালেন কোন্ডা সুরেখা

 মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির সমালোচনা করায় বনমন্ত্রী কোন্ডা সুরেখাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে পুরো ঘটনার সূত্রপাত কিন্তু অনেক আগে। সুরেখার মেয়ে কোন্ডা সুস্মিতা প্যাটেল প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। আর সেই এক কারণেই পদ হারাতে হল তাঁকে।

কিন্তু শুধু মেয়ের বক্তব্যই কি এখানে মূল কারণ? না। জানা গিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই কংগ্রেসের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন সুরেখা। সেখানে তিনি তেলঙ্গানা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন যে তাঁকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এই ঘটনা তেলঙ্গানা কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।

পদ হারিয়েও কিন্তু থামেননি সুরেখা। বরং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। সুরেখার দাবি, “এ রেবন্ত রেড্ডি জোর করে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়েছেন।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বা গালিগালাজ করেছেন, তাঁরা কিন্তু এখনও পদে বহাল রয়েছেন। তবে দলবদলের কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমি কংগ্রেসেই থাকছি। বিধায়ক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাব।”

শুধু নিজের নয়, দলের আরও অনেক নেতা-কর্মী সরকারের কাজকর্মে অসন্তুষ্ট বলেও দাবি করেছেন সুরেখা। তাঁর কথায়, অনেকেই তাঁর সঙ্গে একমত হলেও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান। তিনি জানিয়েছেন, “সবাই আমাকে সমর্থন করবে। তারাও সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে সেটা বলছে না।” মেয়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে বলেছে, আমার মেয়ে এমন কিছু কথা প্রকাশ্যে বলেছে, যা তারা বলতে পারেনি।”

সুরেখার মতে, সরকার যদি কর্মী ও মন্ত্রীদের কথা শোনে এবং সমস্যার সমাধান করে, তবেই আগামী নির্বাচনে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে। অন্যথায় তা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের পর দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন না।

তেলঙ্গানার এই ঘটনা কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও প্রকট করে তুলল। একটি পক্ষ মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী কোনো বিরোধিতা সহ্য করতে নারাজ বলেই এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে, সুরেখা বারবার দলীয় আনুগত্যের কথা বললেও তাঁর সরাসরি সমালোচনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর তেলঙ্গানা কংগ্রেসের ভিতরকার টানাপোড়েন কী মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *