দলের সঙ্গে বেইমানি করলে কাউকে রেয়াত নয়! সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দিতেই মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে প্রবল প্রতিরোধ এলাকায়

তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে দলের বিরুদ্ধাচরণ করলে সরাসরি সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঠিক পরের দিনই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দলের জেলা সভাপতি তথা কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার নদিয়ার চাপড়ায় একটি দলীয় কর্মিসভায় যোগ দিতে গেলে তাঁর কনভয় আটকে প্রবল প্রতিবাদ দেখান স্থানীয় একদল মানুষ। গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা প্রদর্শন এবং স্লোগানকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

সোমবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক জোরালো ভিডিও বার্তায় কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মহুয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে যারা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েত বা স্থানীয় স্তরে অনাস্থা আনছেন, তাঁদের দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। এই সতর্কবার্তার পরেই এদিন চাপড়ায় প্রাক্তন বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক সারেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ দাবি করেন, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে চাপড়ার বিধায়ক জেবের শেখের অনুগামীরা। মহুয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ, চাপড়ায় বিজেপি নেই বললেই চলে; বরং যারা তৃণমূলের প্রতীকে জিতেও দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিজেপির শিবিরে ভিড়েছেন, তাঁদের জন্যই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মিডিয়াতে ফুটেজ পাওয়ার জন্যই এসব করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি।

অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে নদিয়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে কোন্দল এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তেহট্ট থেকে শুরু করে চাপড়া—তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন ও অনাস্থা ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ আগামী দিনে দলীয় সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *