নেপালে ভয়ংকর বন্যা ও লাশের স্তূপ!, পুজোর মুখে নেপাল ট্যুর বাতিলের হিড়িক

প্রতিবেশী দেশ নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে মৃতের সংখ্যা নয়শো ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। এই ভয়াবহতায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকমহলে। দুর্গাপুজোর লম্বা ছুটিতে নেপাল ভ্রমণের যে পরিকল্পনা করেছিলেন বহু বাঙালি পর্যটক, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ট্যুর অপারেটরগুলি।
শরৎকালের দীর্ঘ ছুটিতে ঘোরার জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে নেপাল বরাবরই অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। চলতি বছরেও পুজোর ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রায় সব নামী ট্রাভেল এজেন্সিতে নেপাল ভ্রমণের জন্য ব্যাপক বুকিং হয়েছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বন্যাপ্লাবিত নেপালের মর্মান্তিক ছবি ও ভিডিয়ো দেখে এখন পিছু হটছেন পর্যটকরা। বহু পরিবারই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় এই মুহূর্তে পাহাড়ি দেশটিতে পা রাখতে সাহস পাচ্ছেন না।
কলকাতার স্বনামধন্য ট্যুর অপারেটর সংস্থা ‘যাত্রীক’-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্যার খবর সামনে আসার পর থেকেই পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যটক তাঁদের নেপাল ট্যুর বাতিল করেছেন। অগ্রিম বুকিংয়ের টাকা ফেরতের বিষয়ে ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আগে থেকে কাটা ট্রেনের টিকিটের খরচ বাদ দিয়ে বাকি পুরো টাকাই নিয়মমতো ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কলকাতার আরেকটি পরিচিত ভ্রমণ সংস্থা ‘ব্যানার্জী স্পেশাল’ জানিয়েছে, নেপালের জন্য যাঁদের বুকিং ছিল, তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই এখন আর সেখানে যেতে রাজি নন। অনেকেই সরাসরি ট্যুর বাতিল না করলেও একই প্যাকেজে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি বুঝে ট্যুর পিছিয়ে দেওয়া বা গন্তব্য বদলের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এজেন্সিগুলি। সবমিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় ও নিখোঁজদের খোঁজে চলা উদ্ধারকাজের করুণ দৃশ্যের জেরে চলতি পুজোয় নেপাল ভ্রমণের চ্যাপ্টার আপাতত বন্ধ রাখাই শ্রেয় বলে মনে করছেন পর্যটকরা।