দল বদলালেই কি সব দখল করা যায়? মুর্শিদাবাদে পার্টি অফিস হাতবদল হতেই হাইপ্রোফাইল আইনি লড়াই শুরু!

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মাটির লড়াইয়ে। তৃণমূল জমানার পর এবার রাজনৈতিক পালাবদলে পার্টি অফিস দখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। মুর্শিদাবাদের নওদায় কংগ্রেসের হাতছাড়া হওয়া পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। আদালতের অন্দরে এই মামলার শুনানিতেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহেরের দলবদলকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল শিবিরের পর এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এনসিপিআই (NCPI)-র কায়দায় একে একে বিরোধী দলগুলির পার্টি অফিসগুলি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। অতীতে শাসকদলের বিরুদ্ধে এই ধরনের জবরদখলের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে মারমুখী কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অধীর চৌধুরী। নওদার নির্দিষ্ট একটি পার্টি অফিস বেদখল হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই বড় করে দেখানো হয়েছে আইনি লড়াইয়ে।

তবে শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ বা দখলদারি নয়, মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে এক অভিনব চিত্র। খাস মামলায় নিরাপত্তা ও দখলদারির বহর দেখে আদালতের পক্ষ থেকেও তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। বিচারপতির বেঞ্চে মন্তব্য করা হয়, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সাধারণ কোনো কার্যালয় নয়, বরং এটি যেন কোনো সুরক্ষিত ‘দিল্লির মসনদ’! দখল হওয়া সেই পার্টি অফিস ঘিরে যেভাবে পুলিশি পাহারা ও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তা নিয়েও তীব্র আইনি তর্জা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলাজুড়ে রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয় দখল ও পাল্টাপাল্টি অধিকারের এই লড়াইয়ে হাইকোর্ট আগামী দিনে কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *