রাতের খাবারে রক্তের দাগ! দুর্গাপুরে শ্বশুরবাড়িতে স্বামীকে খুন করানোর অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

রাতের খাবার খাওয়ার সময় ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। খেতে বসার ঠিক আগেই ধারাল অস্ত্র, হাতুড়ি, শাবল ও রড দিয়ে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সম্পত্তির লোভেই এই ঠান্ডা মাথার খুন করানো হয়েছে বলে দাবি মৃতের পরিবারের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমার পাণ্ডবেশ্বরের মহাল এলাকায়।
নিহত ব্যক্তির নাম শেখ হাসমত (৪৪)। তিনি মূলত কর্মসূত্রে বীরভূমে থাকতেন। তবে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি মহাল এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে খাবার খাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে আচমকাই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়। আকস্মিক এই আক্রমণে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা ও স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। যদিও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের জোরালো দাবি, শেখ হাসমতের স্ত্রীর প্ররোচনাতেই তাঁর নিজের ভাই এই নৃশংস হামলা চালিয়েছেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিহতের পরিবার মৌখিকভাবে খুনের অভিযোগ তুললেও এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ ও নেপথ্যের রহস্য স্পষ্ট হবে। বর্তমানে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।