‘ঈশ্বরের কৃপায় পুনর্জন্ম হল!’-নেপালের প্রলয় থেকে বেঁচে ফেরা দম্পতির রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে হঠাৎই ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দিয়েছিলেন চালক। আর তারপর তাঁর সেই একটিমাত্র সিদ্ধান্তই বাঁচিয়ে দিল একটি পুরো দলকে। হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল থেকে রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে অবশেষে রবিবার সকালে পুলিশি নিরাপত্তায় বসিরহাটের বাড়িতে ফিরে এলেন ষাটোর্ধ্ব শিক্ষক অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা রায় পোদ্দার। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে চালকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এই দম্পতি।

অনুকূল বাবু জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি দল নিয়ে তাঁরা নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিন পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় আচমকাই চালক বলে ওঠেন, ‘হড়পা বান আসছে!’ এই কথা শুনে প্রথমে সকলেই বেশ উৎসুক হয়ে পড়েছিলেন এবং কৌতূহলবশত অনেকে গাড়ি থেকে নেমেও পড়েন। দূর থেকে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে মেঘের স্রোতের মতো কিছু একটা নেমে আসতে দেখে তাঁরা সবাই বিস্মিত হয়ে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে চালক বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ংকর এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপদের কোপানলে পড়তে পারেন তাঁরা। একটুও সময় নষ্ট না করে তিনি তৎক্ষণাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে এবং পরবর্তীতে হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

বৃদ্ধ শিক্ষকের কথায়, ‘ভাগ্যিস চালক সময়মতো বুঝতে পেরেছিল! পরে ওঁর মাধ্যমেই জানতে পেরেছিলাম যে ওই রাস্তায় আর যাওয়া সম্ভব নয়। একটু দেরি হলেই যে কী ভয়ংকর পরিণতি হতো, তা ভাবতেও পারছি না। ঈশ্বরের অশেষ করুণা আর আমাদের গাড়িচালকের বুদ্ধিমত্তার জন্যই আজ আমরা প্রাণে বেঁচে ফিরতে পেরেছি। মনে হচ্ছে আমাদের পুনর্জন্ম হয়েছে।’

হোটেল থেকে কাঠমান্ডু হয়ে তাঁদের নিরাপদে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন রেবা দেবী। দলের সকলেই সুস্থভাবে ঘরে ফিরতে পারায় চরম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পোদ্দার পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *