সস্তায় স্বাস্থ্য বীমা কিনছেন? সাবধান! ছোট্ট ভুলে চিকিৎসার পুরো বিল মেটাতে হতে পারে নিজের পকেট থেকে

চিকিৎসার খরচ যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে একটা বড় রোগ বা অস্ত্রোপচার পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই নিঃশেষ করে দিতে পারে। নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে মানুষ এখন অনলাইন বা অফলাইনে সহজেই স্বাস্থ্য বীমা কিনে নিচ্ছেন। শুধু মোবাইল অ্যাপ খুললেন, কভারেজ বেছে নিলেন আর পেমেন্ট করে দিলেন—পলিসি তৈরি। কিন্তু আসল বিপদ এখানেই লুকিয়ে থাকে। বেশিরভাগ মানুষ পলিসির সম্পূর্ণ শর্তাবলী না পড়ে সই করে দেন, যার খেসারত দিতে হয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর।
স্বাস্থ্য বীমা কেনার সময় শুধু কম প্রিমিয়াম বা বীমার মোট পরিমাণ দেখলেই চলবে না। ক্যাশলেস চিকিৎসার আসল অর্থ, রুম ভাড়ার সীমা এবং অন্যান্য গোপন শর্তগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
১. ক্যাশলেস মানেই সব খরচ ফ্রি নয় অনেকেরই ধারণা, ক্যাশলেস চিকিৎসার অর্থ হলো হাসপাতালে এক টাকাও পকেট থেকে দিতে হবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। এর অর্থ হলো পলিসির আওতাভুক্ত খরচগুলো বীমা কোম্পানি এবং হাসপাতাল সরাসরি মিটিয়ে নেবে। গ্লাভস, সিরিঞ্জ, মাস্ক, বা পিপিই কিটের মতো ব্যবহার্য জিনিসগুলোর খরচ অনেক সময় পলিসিতে কভার হয় না। এছাড়া হাসপাতাল কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ফি নিলে এবং তা যুক্তিসঙ্গত না হলে, সেই অংশটুকু আপনাকেই দিতে হবে।
২. রুম ভাড়ার সীমা যাচাই করুন পলিসিতে রুম ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে। আপনি যদি সেই সীমার বাইরে গিয়ে আরও ব্যয়বহুল রুম বেছে নেন, তবে শুধু অতিরিক্ত রুম ভাড়াই নয়, হাসপাতালের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও পলিসির আওতা থেকে বাদ যেতে পারে। একে আনুপাতিক ছাড় বা প্রপোর্শনেট ডিডাকশন বলা হয়। রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম বা সীমা থাকতে পারে।
৩. এজেন্টের কথায় অন্ধ ভরসা নয় পলিসি বিক্রির সময় এজেন্টরা অনেক কিছু প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দাবির সময় বা ক্লেম করার মুহূর্তে পলিসির কাগজপত্রে যা লেখা আছে, সেটাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এজেন্ট মুখে যা বলছেন, তার প্রতিটি কথা পলিসির নথিতে লিখিত আছে কি না, তা নিজে ভালো করে যাচাই করে নিন।
৪. পুরোনো রোগ গোপন করবেন না ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা থাইরয়েডের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কথা পলিসি নেওয়ার সময় অনেকেই গোপন করেন। প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার ভয়ে এই লুকোচুরি করা হলেও, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পুরনো নথিপত্র থেকে ঠিক সত্যিটা বেরিয়ে আসে। ফলস্বরূপ, কোম্পানি আপনার দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই সঠিক তথ্য দিন।
৫. শুধু কম প্রিমিয়াম দেখে প্ল্যান কিনবেন না সবচেয়ে সস্তা পলিসিটিই আপনার জন্য সেরা নাও হতে পারে। কম প্রিমিয়ামের প্ল্যানে প্রায়ই কো-পেমেন্ট অর্থাৎ দাবির একটি অংশ নিজে থেকে দেওয়ার শর্ত, সাব-লিমিট বা নির্দিষ্ট অপেক্ষার সময়কাল (ওয়েটিং পিরিয়ড) জুড়ে দেওয়া থাকে। তাই সস্তার লোভে না গিয়ে পলিসির সম্পূর্ণ শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়ুন।