দিনে ১০ বার ফোন করে জ্যাকলিনকে ছাড়তে বলতেন! নোরাকে নিয়ে জেল থেকে বিস্ফোরক চিঠি সুকেশের

২০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। জেলের অন্দরে বসে এবার অভিনেত্রী নোরা ফতেহির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন এই মামলার মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর। সম্প্রতি নোরার উদ্দেশ্যে লেখা সুকেশের একটি হস্তলিখিত চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও চিঠিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং সুকেশের তোলা অভিযোগগুলোর কোনো আইনি সত্যতা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।

কিছুদিন আগেই একটি সাক্ষাৎকারে নোরা ফতেহি দাবি করেছিলেন যে, সুকেশের সঙ্গে নাম জড়ানোর কারণে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই মন্তব্যের পরেই প্রকাশ্যে আসে সুকেশের এই বিস্ফোরক চিঠি। চিঠিতে নোরাকে ‘ভুক্তভোগী সাজার নাটক’ বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সুকেশ দাবি করেছেন, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় নোরার জন্য একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনতে তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের পুরনো কথোপকথনের সমস্ত রেকর্ড প্রকাশ্যে আনারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সুকেশের আরও দাবি, নোরার সঙ্গে তাঁর বহু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তালাপের প্রমাণ রয়েছে, যেখানে অভিনেত্রীর বিলাসবহুল উপহার ও জীবনযাত্রার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পাশাপাশি জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের সঙ্গে সুকেশের সম্পর্ক নিয়ে নোরা নাকি ভীষণভাবে ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলেও দাবি করেছেন এই অভিযুক্ত।

চিঠিতে নোরাকে সতর্ক করে সুকেশ লিখেছেন, “তুমি আমাকে দিনে অন্তত ১০ বার ফোন করে জ্যাকলিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করতে। আমার মগজধোলাই করার চেষ্টা করতে যাতে তোমার বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সমস্ত খরচ আমি বহন করি। আমাকে আর উস্কানি দিও না।”

উল্লেখ্য, ২০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা এবং অর্থপাচার মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ এবং নোরা ফাতেহি—দুজনেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) স্ক্যানারে রয়েছেন। এই মামলায় জ্যাকলিনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, নোরা ফতেহিকে এখনও পর্যন্ত সাক্ষী এবং তদন্তের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। তবে নোরা বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক তছরুপের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে এই প্রতারণার শিকার বলেই দাবি করে এসেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *