“যাঁদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ছবি থাকত না, তাঁরাই…” যাদবপুর নিয়ে বামেদের কোন গোপন সত্য ফাঁস করলেন শুভেন্দু?

রাখিবন্ধন উৎসবের পবিত্র তিথিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহাসিক ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি। শুক্রবার রাজ্য সরকারের এই মেগা সমাবেশে উপস্থিত থেকে যাদবপুরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত পরিবেশ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আলিপুরের আম্বেদকর কলোনিতে রাখি উৎসবের মাধ্যমে দিন শুরু করে যাদবপুরের এই জনসভায় দাঁড়িয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং সিপিএমের বিরুদ্ধে একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘ চৌত্রিশ বছরের বাম জমানায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নির্দিষ্ট বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্ট রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের কোনো ছবি খুঁজে পাওয়া যেত না, ঐতিহাসিক অতীতে যাঁরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জুয়া কবি’ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তাঁরাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসিকতা বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষা কেন্দ্রকে উচ্চ মেধার পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাজেটে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজের আওতায় ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাঙালি তথা ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন পরম্পরা এবং দেশপ্রেমের চেতনা থেকে ছাত্রসমাজকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।

বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ স্লোগান লেখা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিষেণজির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ভারতীয় সংবিধানকে অস্বীকার করতেন, ভোট বয়কটের ডাক দিতেন এবং দেশের অখণ্ডতা বিপন্ন করার চেষ্টা করতেন, তাঁকে স্যালুট জানানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ফ্রি প্যালেস্তাইন স্লোগান দেওয়ার বদলে দেওয়ালে লেখুন ‘ফ্রি পাক অকুপাই কাশ্মীর’ (POK)।” ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পিওকে পুনরুদ্ধার করা ভারতের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে বহিরাগত ও প্রাক্তনী সমস্যা এবং শিক্ষা মহলের একাংশের ভূমিকা নিয়ে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *