‘জমিদারি চলবে না, পুলিশ ফ্রি হ্যান্ড কাজ করছে!’ ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে অভিষেককে চরম হুঁশিয়ারি দিলীপের

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ও হোর্ডিং অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই চত্বরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলকর্মীদের হাতে পুলিশ আধিকারিকদের নিগৃহীত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আর এই প্রসঙ্গেই শুক্রবার শাসকদল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এদিন কড়া ভাষায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা বুঝতে পারছেন না যে পরিবেশ পাল্টেছে, সরকার পাল্টেছে, প্রশাসন পাল্টেছে। এখানে কোনো পরিবারবাদ বা কারও মনমর্জি চলবে না। আইন সবার জন্য সমান এবং পুলিশ তা করে দেখাচ্ছে। কেউ আইনের ওপরে নয়, প্রয়োজন হলে আইন সব করবে।”
পুলিশ বিজেপির হয়ে কাজ করছে— অভিষেক শিবিরের এমন দাবি তীব্রভাবে খারিজ করে দিলীপ ঘোষ পালটা প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি কোথা থেকে এলো? প্রশাসন তার কাজ করছে। পুলিশ কি বিজেপি নাকি? ওরা পুলিশ প্রশাসনকে টিএমসি (TMC) করেছিল, আমরা তা করব না। সবার হাত খুলে দিয়েছি, আইন মেনে সবাই কাজ করছে, আপনারাও আইন মানুন তাহলেই আর সমস্যা হবে না।” অভিষেককে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “আপনি ভাবছেন আপনার জমিদারি! সে কথা তো চলতে পারে না। পুলিশকে পুরোটাই ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সেভাবেই কাজ করছে। এখনই বুঝতে পারছেন, আগামী দিনে আরও বুঝতে পারবেন।”
অন্যদিকে, যাদবপুরে রাখি বন্ধন উৎসবের দিন ১০ হাজার কন্ঠে একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাখি আমাদের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের সূত্র। পশ্চিমবঙ্গে সেই রাখিকে ভাই-বোনের সম্পর্কের বাইরে এনেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বন্দে মাতরম গান লিখে সামাজিক উৎসব করে বঙ্গভঙ্গ রোধ করা হয়েছিল। সমাজকে এক করার জন্য রাখি সবচেয়ে জোরালো মাধ্যম। যাদবপুরে কিছু লোক বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে ও বিচ্ছিন্নতা ছড়াচ্ছে। সেই জন্য সেখানে রাষ্ট্রবাদের বিশেষ প্রয়োজন আছে। জোরদার রাখি বন্ধন উৎসব হোক এবং জোরদার বন্দে মাতরম গান হোক।”