চিন-কোরিয়ার দিন শেষ! দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মোবাইল কাঁপাতে আসছে বিশ্ববাজার

দেশে উৎপাদিত হলেও এতদিন স্মার্টফোন বাজারে কোনো নিজস্ব আন্তর্জাতিক বা গ্লোবাল ব্র্যান্ড না থাকার আক্ষেপ মিটতে চলেছে। ভারতে ব্যবহৃত মোবাইলের ৯৯.২ শতাংশই এখন দেশেই তৈরি হয়, যা দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে স্মার্টফোন ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত হওয়ার পথে। তবে উৎপাদনের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরও স্যামসাং, ভিভো বা শাওমির মতো কোনো বিশ্বমানের স্বত্বাধিকারী দেশীয় ব্র্যান্ড বাজারে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। আর এই ঘাটতি মেটাতেই এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

৬২,৫০০ কোটির নতুন প্রোডাকশন স্কিম

এই শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি ৬২,৫০০ কোটি টাকার একটি বিশাল মোবাইল উৎপাদন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নিছক ফোন অ্যাসেম্বল করা বা জোড়া লাগানো নয়; বরং ভারতেই উন্নতমানের ডিজাইন তৈরি, নিজস্ব পেটেন্ট গ্রহণ এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ দেশ প্রথম শক্তিশালী গ্লোবাল ব্র্যান্ডের মুখ দেখতে চলেছে। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলি যোগ্য বিক্রয়ের ওপর ৫ শতাংশ এবং নিজস্ব দেশীয় ডিজাইনের জন্য অতিরিক্ত ৩ শতাংশ প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ পাবে। বিশেষ করে ৫১ শতাংশ বা তার বেশি ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থাকে এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো ধাক্কা কাটিয়ে কামব্যাকের পালা

দশকখানেক আগেও মাইক্রোম্যাক্স, লাভা বা ইনটেক্সের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলি বাজারের একটা বড় অংশ দখল করে রেখেছিল। কিন্তু চিনা কোম্পানিগুলির সস্তা ও উন্নত স্পেসিফিকেশনযুক্ত ফোনের ঝড়ে একসময় সেই মার্কেট শেয়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে বর্তমান চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। লাভা বা মাইক্রোম্যাক্সের মতো কোম্পানিগুলি পুরনো ধাক্কা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে। লাভা ইতিমধ্যেই বাজেট সেগমেন্টে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে এবং ডিসপ্লে ও ক্যামেরা মডিউলে বড় অংকের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ডিক্সন টেকনোলজির মতো উৎপাদন ইকোসিস্টেম দেশেই গড়ে ওঠায় এখন যেকোনো নতুন ভারতীয় ব্র্যান্ডের পক্ষে বিশ্বমানের ফোন উৎপাদন করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

আসল চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের পথ

কারখানা স্থাপন বা পুঁজি বিনিয়োগ করা তুলনামূলক সহজ হলেও স্যামসাং বা শাওমির মতো বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্রাহকের মনে দীর্ঘমেয়াদী আস্থা অর্জন করাই আসল চ্যালেঞ্জ। নতুন এই প্রকল্পের সাফল্য কেবল কতগুলি ফোন তৈরি হলো তার ওপর নির্ভর করবে না, বরং ভারতের নিজস্ব ব্র্যান্ড বিশ্ববাজারে কতটা টেকসই হতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে। সব ঠিকঠাক চললে খুব শীঘ্রই স্যামসাং বা শাওমির সমকক্ষ ভারতীয় ব্র্যান্ড বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *