৩১৪ কিমি দূর থেকে পাক বিমান ধ্বংস! ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ কীভাবে ত্রাস হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের জন্য?

পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর বদলা নিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত পরিচালনা করেছিল ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেই অভিযানের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে সামনে এসেছিল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৪০০’। ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত এই সংঘাতের সময় পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে কীভাবে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য প্রকাশ করেছেন তৎকালীন ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র।
এক সাক্ষাৎকারে এই প্রবীণ সেনাকর্তা জানান, ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ভয়ে পাকিস্তানি ফাইটার জেটগুলি ভারতীয় সীমান্তের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেও ঘেঁষার সাহস পায়নি। তিনি খোলসা করেন যে, সংঘাতের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ভারতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানার জন্য মারাত্মক মরিয়া হয়ে উঠেছিল। বিদেশি স্যাটেলাইট সহায়তার (যার মধ্যে চিন রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছিল) পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে থাকা নিজেদের গোপন স্লিপার সেল ও গুপ্তচরদের সক্রিয় করে তুলেছিল পাকিস্তান।
এয়ার মার্শালের কথায়, “পাকিস্তানের বিমান আকাশে উড়লেই তা এস-৪০০-এর রাডারে ধরা পড়ত এবং মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করা হতো। পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছিল, যাতে সাধারণ নাগরিকদের কোনো প্রাণহানি বা পার্শ্ব-ক্ষতি না হয়। সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ অপারেশনাল স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।”
অভিযান চলাকালীন পাকিস্তানের রাডার ও কমান্ড সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিবরণ দিয়ে প্রাক্তন এয়ার মার্শাল জানান, মে মাসের শুরুতে জইশ ও লস্করের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করার পর পাকিস্তান প্রতিশোধ হিসেবে শত শত ড্রোন ও মিসাইল ছাড়ে। ৯ মে তাদের একটি ড্রোন বিমান ঘাঁটির হাসপাতালে আছড়ে পড়লে ভারতের এক বিমানকর্মী শহিদ হন এবং অপর এক সেনার হাত কেটে বাদ দিতে হয়। এরপরেই ভারত আরও কঠোর জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথমে পাকিস্তানের গ্রাউন্ড-বেসড রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকल করে তাদের ‘অন্ধ’ করে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান তাদের এডাব্লিউএসিএস (AWACS) নজরদারি বিমান আকাশে ওড়ালে, ৩১৪ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থাতেই ভারতের এস-৪০০ দিয়ে তা সফলভাবে ভূপতিত করা হয়। এটি বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে সারফেস-টু-এয়ার (মাটি থেকে আকাশ) মিসাইলে দীর্ঘতম দূরত্বের বিমান ধ্বংসের রেকর্ড গড়েছে।
এই নজিরবিহীন সাফল্যের পর ১০ মে ভারত নূরে খান ও ভোলারি-সহ পাকিস্তানের ১১টি বড় সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিধ্বংসী আঘাত হানে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য আর্জি জানাতে বাধ্য হয়। এছাড়া এই অভিযানে ভারতীয় নারী ফাইটার পাইলটরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান কার্যালয় এবং পাকিস্তানের কমান্ড সেন্টার ও বিমানঘাঁটিতে নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইক পরিচালনা করেছেন।