SIR-এ কাটা নামের ৯০% ই ভুল! ৩১০ কেজির ধাক্কায় কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি, বড় পদক্ষেপের পথে শীর্ষ আদালত?

বাংলায় কি তবে ফের নির্বাচন? ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বড় জল্পনা!

পশ্চিমবঙ্গে কি আবারও নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে? সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এমন একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই প্রশ্নটি উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ‘বিশেষ गहन पुनरीक्षण’ বা SIR প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, তার ট্রাইব্যুনাল রিপোর্ট সামনে আসার পরেই এই জল্পনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

ট্রাইব্যুনালের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য: সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন याचिकाকারীর পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শংকরণারণায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর (SIR)-এর অধীনে এখনও পর্যন্ত যে ৮৩ হাজার মামলার রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল, তার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে গণ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁদের সিংহভাগকেই বৈধ ভোটার হিসেবে পাওয়া গেছে। যদি এই পরিসংখ্যানকে নমুনা ধরে বিচার করা হয়, তবে গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

৩১টি আসনে কি ফলের মার্জিন বদলে যাবে? তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৮ লক্ষ মামলা দায়ের হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ৩১টি এমন বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে জয়ের ব্যবধান বা মার্জিনের চেয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এই আসনগুলির মধ্যে বালি, হেমতাবাদ এবং সতগছিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট? মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আদালত জানিয়েছে যে, এই ধরনের আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত তথ্য ও ডেটা জমা দিতে হবে। যদিও নতুন করে নির্বাচন করানোর নির্দেশ দেওয়া নিয়ে আদালত এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে ট্রাইব্যুনালের এই রিপোর্ট যে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ভূমিকম্প তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *