ভুল নিয়মে কি ভাইয়েকে রাখি পরাচ্ছেন? এই ছোট্ট ভুলের কারণে অজান্তেই বড় ক্ষতি ডেকে আনছেন না তো!

ভাইকে রাখি বাঁধার আগে তিলক লাগানোর সঠিক নিয়ম কী? জেনে নিন শাস্ত্রমতে সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি
ভাই-বোনের পবিত্র বন্ধনের উদযাপনের দিন অর্থাৎ রক্ষা বন্ধন উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। আগামী ২৮ আগস্ট শুক্রবার অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হবে এই পবিত্র উৎসব। তবে পঞ্জিকা মতে ভাইয়ের কপালে তিলক পরা এবং রাখি পরানোর ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম। সঠিক দিক, পূজার সামগ্রী এবং তিলক লাগানোর নিয়ম মেনে চললে ভাইয়ের সুস্বাস্থ্য, যশ ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত হয় বলেই বিশ্বাস।
কীভাবে সাজাবেন পূজার থালি? রাখি বাঁধার আগে বোনকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে পূজার থালি প্রস্তুত করতে হবে। থালায় রাখতে হবে রোলো বা কুমকুম, অক্ষত বা অখণ্ড চাল, চন্দন, প্রদীপ, মিষ্টি এবং পবিত্র রক্ষা সূত্র। সঠিক ভাব ও নিয়মে এই সামগ্রী প্রস্তুত করলে পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।
কোন দিকে মুখ করে বসবেন? শাস্ত্র অনুযায়ী, তিলক লাগানোর সময় দিকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভাই ও বোন—উভকেই পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে হবে। এছাড়া ভাইয়ের মাথা কোনো পরিষ্কার কাপড় বা টুপি দিয়ে ঢাকা থাকা বাধ্যতামূলক। সঠিক নিয়ম মেনে পূজার এই পদক্ষেপগুলি সম্পন্ন করলে ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
তিলক ও অক্ষত ব্যবহারের সঠিক নিয়ম: ভাইয়ের কপালে তিলক লাগানোর সময় ডান হাতের আঙুল (অনামিকা বা বুড়ো আঙুল) ব্যবহার করা উচিত। তিলক সবসময় নিচ থেকে ওপরের দিকে লাগাতে হবে, যা মূলত উন্নতির প্রতীক। এর পর তিলকের ওপর এমন চাল বা অক্ষত দিতে হবে যা যেন কোনোভাবেই ভাঙা না হয়। কারণ অখণ্ড চাল সৌভাগ্য ও পূর্ণতার প্রতীক।
আরতি ও রাখি পরানোর বিধান: তিলক ও অক্ষত দেওয়ার পর ভাইয়ের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর করতে তাঁর আরতি করতে হবে। এর পরই ভাইয়ের ডান কলাইয়ে পবিত্র রক্ষা সূত্র বা রাখি বাঁধতে হবে। সবশেষে মিষ্টিমুখ করিয়ে এই পবিত্র উৎসবকে আরও মধুর করে তুলতে হবে। সঠিক বিধানে পালিত এই আচার ভাই-বোনের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে।