দুর্যোগ সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাল! নেপালে তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়ায় হড়পা বানের সর্বনাশা রূপ, মৃত বেড়ে ৪৬

নেপালে বিধ্বংসী হড়পা বানের তাণ্ডব! মৃত ৪৬, নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়সহ প্রায় ৪০০

হিমালয়ের কোলে নেমে এল এক ভয়ানক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া নেপালের রসুয়া জেলায় হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বিধ্বংসী হড়পা বানে ভেসে গেল একাধিক গ্রাম এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন, যার মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন।

সিসিটিভিতে শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য: তিব্বতের জিরং বন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে এই ধ্বংসলীলার যে ছবি ধরা পড়েছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রবল বেগে ধেয়ে আসা কাদামাটি ও পাথরের স্রোত চোখের নিমেষে পার্কিং লটে থাকা সারি সারি গাড়িগুলোকে জলের টানে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রাণভয়ে মানুষজনকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়, আর তার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবকিছু জলের নিচে তলিয়ে যায়।

কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? তি্ববতের দিক থেকে নেমে আসা এই ভয়াল স্রোত ‘ভোট কোশী’ নদীর জলস্তর মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়িয়ে দেয়। যার জেরে সরাসরি নেপালের রসুয়া ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে আছড়ে পড়ে জলের তোড়। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ এই জলস্ফীতির জেরে রসুয়া ছাড়াও তিব্বত সীমান্তবর্তী ধাদিঙ এবং কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমের নুয়াকোট জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজদের তালিকায় বহু বিদেশি ও কৈলাশযাত্রী: নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিশেষ করে, নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রার তীর্থযাত্রী ছিলেন বলে একটি ভ্রমণ সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের নাগরিকরাও নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ: পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে নেপাল সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টারও। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিমালয়ের এই আকস্মিক তাণ্ডবে এখন স্বজনহারাদের আর্তনাদ আর নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *