নেপালের প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানের নেপথ্যে কি চিন? বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল!

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের নেপথ্যে চিন? ‘একতরফা ভালবাসা’র মাশুল নিয়ে সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

এই ছিল, নেই পরের মুহূর্তে! প্রকৃতির এক ভয়ঙ্কর আক্রোশে নিমেষে শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠল। বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানে ভেসে গেল নেপালের একের পর এক ভবন, রাস্তাঘাট ও দোকানপাট। চারদিকে শুধু মৃত্যুমিছিল আর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে নিখোঁজের তালিকা। চোখের পলকে তছনছ হয়ে যাওয়া এই বিপর্যয়ের আসল কারণ খুঁজতে যখন গবেষকরা ব্যস্ত, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নেপালের এই সর্বনাশের নেপথ্যে কি রয়েছে চিনের কোনো গোপন চাল? এই প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এক বিশিষ্ট নেপালি সাংবাদিক।

সাংবাদিকের বিস্ফোরক অভিযোগ ও ক্ষোভ:

  • চিনের ‘আগাম সতর্কতা’ নিয়ে প্রশ্ন: সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক পরশুরাম কাফলে চিনকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, এত বড় একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন চিন সময়মতো নেপালকে সতর্ক করল না?

  • ‘একতরফা প্রেম’-এর হতাশা: নেপাল সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করলেও, দুর্দিনের দিনে চিনের এই উদাসীনতাকে তিনি ‘একতরফা ভালবাসা’র নির্মম মাশুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগাম সতর্কবার্তা না দিয়ে চিন আদতে নেপালের বড় ক্ষতি করে দিয়েছে বলে তোপ দেগেছেন তিনি।

ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র ও নিখোঁজের আতঙ্ক: হঠাৎ নেমে আসা এই প্রলয়ঙ্করী হড়পা বানে মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একাধিক গ্রাম, রাস্তা ও সেতু। মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়া বহু পর্যটক এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। নেপাল পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯১ জন বিদেশি-সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ভারতীয় নাগরিকই রয়েছেন ১০৫ জন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।

অন্যদিকে, এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (NEA)-র রাসওয়াগধি, চিলিমে, ত্রিশূলি ৩এ-সহ অন্তত ছ’টি প্রধান জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা গোটা দেশকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *