রাজনীতির মহানাটক মালদায়! তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেসের ভোটেই প্রধান হলেন পদ্মশিবিরের নেত্রী

রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতি—সব জায়গাতেই বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে আকণ্ঠ লড়াইয়ে ব্যস্ত। কিন্তু সেই রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি উল্টে দিয়ে এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদার মালতিপুর বিধানসভার পীরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত। চরম শত্রুতা ভুলে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের যৌথ সমর্থনে সেখানে পঞ্চায়েত প্রধানের কুরসিতে বসল বিজেপি! এই ঘটনায় জেলাজুড়ে তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তুমুল তরজা।
অঙ্কের মারপ্যাঁচ ও অনাস্থার গল্প
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পীরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০টি আসনের মধ্যে একা ১২টিতে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে সহজেই বোর্ড গঠন করে তারা, প্রধান হন রেশমা খাতুন। বিরোধী শিবিরে ছিল কংগ্রেসের ৪টি, সিপিএমের ৩টি এবং বিজেপির মাত্র ১টি আসন।
তবে গত ৪ মে রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া এবং পূর্বের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পরেই নড়চড়ে বসে বিরোধীরা। বুধবার ছিল প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের তলবি সভা। ১৬টি ভোট পেয়ে সেখানে নতুন প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির একমাত্র জয়ী সদস্য আরতি কর্মকার।
ভোটের হিসাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রাপ্ত ১৬টি ভোটের মধ্যে ১টি নিজের হলেও, বাকি ১৫টি ভোটের মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী ৮ জন, কংগ্রেসের ৪ জন এবং সিপিএমের ৩ জন সদস্য আরতি দেবীকে ভোট দেন। অর্থাৎ, ১২ জন তৃণমূল সদস্যের মধ্যে ৪ জন দলীয় নির্দেশ বা আগের প্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় এবং বাম-কংগ্রেস একজোট হওয়ায় মসনদ হাতছাড়া হয় ঘাসফুল শিবিরের।
কার কী বক্তব্য?
নবনির্বাচিত প্রধান আরতি কর্মকার বলেন, “আগের প্রধান মানুষের জন্য কাজ করেননি, তাই অনাস্থা এনে তাঁকে হটানো হয়েছে। সবার সমর্থনে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।”
তৃণমূলের স্থানীয় নেতা আবদুল হান্নান ও বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত দলের কোনও যৌথ নির্দেশ নয়। এলাকার উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তেই দলের সদস্যরা এই অবস্থান নিয়েছেন।
একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস ও সিপিএম শিবিরের গলাতেও। কংগ্রেস নেতা আলবিরুনী জুলকারনাইন ও সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফেরদৌস একযোগে দুর্নীতিগ্রস্ত আগের প্রধানকে সরাতে এই সমর্থন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে বিরোধী দলগুলির এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ অবস্থান নিয়ে অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির মালদা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় সাফ জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অমান্য করে তৃণমূলের সমর্থনে প্রধান গঠন মেনে নেওয়া হবে না। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সার্বিক এই ঘটনায় মালদার রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—রাজ্য নেতৃত্বের চোখ এড়িয়ে এমন জোট রাজনীতি কতদূর গড়াবে?