বাংলার বুকেই তৈরি হবে দেশের মহাশক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ! আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রজেক্টে আর কী চমক রয়েছে?

বাংলার বুকেই তৈরি হবে ২০০ মিটার লম্বা যুদ্ধজাহাজ! আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চক এবার ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং শিল্প মানচিত্রে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায় যোগ করতে চলেছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি বিশাল বিনিয়োগে এখানে গড়ে উঠছে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা জিআরএসই-র (GRSE) অত্যাধুনিক গ্রিনফিল্ড শিপবিল্ডিং ও রিপেয়ার হাব। কলকাতার অত্যন্ত কাছে হুগলি নদীর তীরবর্তী এই কারখানায় কেবল ছোটখাটো জলযান নয়, বরং ২০০ মিটার পর্যন্ত লম্বা যুদ্ধজাহাজ এবং বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজও তৈরি ও মেরামত করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের বিশেষত্ব ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব:
-
কৌশলগত অবস্থান ও পরিকাঠামো: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের অধীনে থাকা প্রায় ৩২ একর জমিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এই হাব তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রায় ৩৫৬ মিটার দীর্ঘ ওয়াটারফ্রন্ট এবং একটি জেটি থাকার কারণে হুগলি নদীর মাধ্যমে বড় আকারের জাহাজ যাতায়াত ও মেরামতের ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ স্থান হয়ে উঠেছে।
-
প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতা: সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দিল্লি সফর ও অনুমোদনের পরই এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। নৌবাহিনীর পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার বা বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এই কারখানা।
স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের জোয়ার: শুধু প্রতিরক্ষা বা শিল্প উৎপাদনই নয়, এই মেগা প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসাহ তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান নিয়ে। রায়চক, ফলতা ও সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর জন্য সরাসরি কাজের সুযোগ তো বটেই, পাশাপাশি লজিস্টিকস, পরিবহণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলিতেও বিশাল পরিমাণে পরোক্ষ কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যেতে চলেছে। সবমিলিয়ে, রায়চকের এই রূপান্তর দক্ষিণ ২৪ পরগনার অর্থনৈতিক ছবিটাই সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।