নেপালে হড়পা বানের তাণ্ডব! মানস সরোবরে যাওয়া শতাধিক ভারতীয় নিখোঁজ, বালেন্দ্রকে কী বার্তা দিলেন মোদি?

নেপালে আচমকা নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার টেলিফোনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে কথা বলে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালকে সমস্ত ধরনের মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নয়াদিল্লি নিবিড় নজর রাখছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলাকালীন কাঠমান্ডুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই চরম সংকটের মুহূর্তে নেপালের সাধারণ মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে ভারত। উদ্ধারকার্য থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে দেশ।

এদিকে, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু পুণ্যার্থী। নেপালের রাসুয়া এবং তিব্বত সীমান্তবর্তী সংলগ্ন এলাকায় বুধবার সকালে আচমকা হড়পা বান নামে। সকাল ৯টা নাগাদ ভোতে কোশি নদীর জলস্তর হু-হু করে বেড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জলের তোড়ে ভেসে যায় একাধিক গাড়ি, পণ্যবোঝাই গাড়ি এবং সদ্য নির্মিত একটি সেতুও। বেশ কয়েকটি জনবসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২২ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও, নিখোঁজের সংখ্যা এক হাজারের বেশি হওয়ায় মৃতের তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হঠাৎ এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তিব্বতের দিকে কোনও হিমবাহ-হ্রদের জল হঠাৎ বেরিয়ে আসা (GLOF) বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক কারণে এই হড়পা বান হতে পারে। ঘটনার জেরে রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং গোরখা জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। দুর্গত এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই ১২টি সেনা হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *