ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে বড় মোড়! মহদিপুর স্থলবন্দর আধুনিক রূপ পেতেই কি কমবে চরম যানজট?

সীমান্তে কমবে যানজট, বাড়বে বাণিজ্যের গতি! আধুনিক পরিকাঠামোয় মহদিপুর স্থলবন্দরকে সাজাতে বড় পরিকল্পনা

দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন রূপ পেতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মালদহের মহদিপুর স্থলবন্দর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সীমান্ত পারাপারের পরিসেবা আরও দ্রুত ও উন্নত করতে এই স্থলবন্দরটিকে ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট বা আইসিপি (ICP)-এর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রাপোল স্থলবন্দরের আদলেই এখানে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জমির দলিল হস্তান্তর ও প্রশাসনিক বৈঠক: প্রস্তাবিত এই আইসিপি প্রকল্পের জন্য মোট প্রায় ২৫ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬.৭০ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মালদহের আরটিসি হলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের পক্ষে জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর এবং ভূমি সংস্কার আধিকারিক শ্রীনিবাস পাটিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের হাতে এই নিবন্ধিত দলিল তুলে দেন। এরপরেই যৌথভাবে প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রশাসনিক কর্তারা।

কী কী সুবিধা মিলবে নতুন এই আইসিপিতে? ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আন্ডার সেক্রেটারি নারায়ণ সিং চৌহান জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্থলবন্দরের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে ভবন, স্বাস্থ্য, পানীয় জল ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলি ঢেলে সাজানো হবে। এর ফলে পণ্যবাহী গাড়ি ও যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি বিএসএফ, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পরিষেবার পাশাপাশি ডিজিটাল স্ক্যানারের মাধ্যমে গাড়ি চেকিং এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আসবে।

ব্যবসায়ী মহল ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে উঠলে একদিকে যেমন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, তেমনই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি সমস্ত ধরনের বেআইনি পাচার ও যানজটেও কার্যকরভাবে লাগাম টানা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *