ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশির হানা! হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ, এটা কি নতুন কোনো ভাইরাসের দাপট? জানাল ICMR!

সারা দেশে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা! নতুন ভাইরাস নিয়ে বড় আপডেট দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও ICMR
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে এই ধরনের অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো নতুন বা ভয়ঙ্কর ভাইরাসের দাপট? এই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)। তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে দূর করে বড় স্বস্তির খবর শুনিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
ভয়ের কি কোনো কারণ আছে? কী বলছে ICMR?
আইসিএমআর (ICMR)-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ রিসার্চের সেক্রেটারি ড. রাজীব বাহল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যে ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা বা H1N1 ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে ঋতুভিত্তিক (Seasonal Influenza)। এর পেছনে নতুন বা অস্বাভাবিক কোনো জেনিটিক পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এটি বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে থাকা নিয়মিত একটি মৌসুমী সংক্রমণ মাত্র। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাধারণ ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
-
তীব্র জ্বর এবং মাথাব্যথা
-
গলা ব্যথা ও শুকনো কাশি
-
সারা শরীরে প্রবল ব্যথা ও ক্লান্তি
-
কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা
কাদের ঝুঁকি বেশি?
চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সর্দি-জ্বর সাধারণত কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে বয়স্ক ব্যক্তি, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে (Co-morbidities), তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে। তাই এই বিশেষ গোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি সতর্কতা ও করণীয়:
১. ওষুধ নিয়ে সাবধানতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সেবন করবেন না।
২. শ্বাসনালীর পরিচ্ছন্নতা: হাঁচি বা কাশির সময় অবশ্যই নাক ও মুখ রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন।
৩. বারবার হাত ধোয়া: সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন এবং নোংরা হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. বিশ্রাম ও পুষ্টি: শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেবেন না, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন এবং ঘরেই বিশ্রাম নিন।
পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে এর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সামান্য সতর্কতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই মৌসুমী অসুস্থতার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।