পড়ুয়া নেই, অথচ দিব্যি চলছে মিড ডে মিল! সাংবাদিক দেখেই ক্যামেরার সামনে দৌড় ও হামাগুড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা শিক্ষকের!

স্কুলে পড়ুয়া ‘নেই’, তা-ও মিড ডে মিল! প্রশ্ন শুনেই ‘প্রকৃতির ডাকে’ দৌড়লেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

যাঁদের জন্য বিদ্যালয় তৈরি, সেই ছাত্রছাত্রীদের টিকিও নেই। অথচ স্কুল খোলা রয়েছে, আর নিয়ম করে সেখানে বসে হাজিরা দিচ্ছেন তিন-তিনজন শিক্ষক! শুধু তাই নয়, পড়ুয়াশূন্য সেই স্কুলেই দিব্যি চলছে মিড ডে মিলের বিল তোলার কাজ! পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামের এই ভুঁয়ো স্কুলের চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে।

ঘটনাটি পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের চাকলতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতকুমডি গ্রামের। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাতকুমডি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রে একসময় প্রায় সাড়ে তিনশো পড়ুয়া থাকলেও বর্তমানে সেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা শূন্য। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পড়াশোনা ভালো না হওয়ায় গ্রামের কচিকাঁচারা ৫ কিলোমিটার দূরের অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছে। অথচ বর্ষার জঙ্গলে ঢাকা ভূতুড়ে ওই বিদ্যালয় ভবনে তিন শিক্ষক নিয়মিত আসেন, আড্ডা দেন এবং মাসের পর মাস বেতন তুলছেন। শুধু তাই নয়, ভুয়ো মিড ডে মিলের বিল দাখিল করার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

এই খবর চাউর হতেই আসল নাটক শুরু হয়। সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখে সবটা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি স্কুল চত্বর ছেড়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ কুমার রেওয়ানি। ক্যামেরা দেখে পালাতে গিয়ে তিনি রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে যান, হামাগুড়ি দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়! কোনমতে সামলে নিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে ফিরে এসে ক্যামেরার সামনে সাফাই দেন যে, তিনি নাকি ‘প্রকৃতির ডাকে’ সাড়া দিতে ছুটেছিলেন! কিন্তু মিড ডে মিলের রান্না সংক্রান্ত কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। গ্রামবাসীরা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পড়ুয়াশূন্য স্কুলে শিক্ষকদের এই রমরমা কারবার এখন নেটপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *