ডিগ্রি ও ইন্টারভিউতেও মিলছে না চাকরি!, চিনের এই মন্দিরে ভিড় করছে Gen-Z -রা

সারা ভারত জুড়েই বেকারত্ব এবং চাকরির সংকট নিয়ে চর্চা দীর্ঘদিনের। বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী ডিগ্রি হাতে নিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। তবে এই ছবিটা কেবল ভারতের একাই নয়, গোটা বিশ্ব জুড়েই বেমহল চিত্রটা কমবেশি একই রকম। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চিনও যে এই সংকটের বাইরে নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে, সাংহাইয়ের মতো উন্নত ও জনবহুল শহরের জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম ভালো চাকরি এবং কেরিয়ারে সফল হওয়ার আশায় এখন সোজাসুজি মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠুকতে শুরু করেছে। মনের শান্তি ও ভালো কর্মসংস্থানের কামনায় তরুণ-তরুণীরা ভিড় জমাচ্ছে প্রাচীন ধর্মীয় স্থানগুলিতে।

চিনের ১,৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক লংহুয়া মন্দির (Longhua Temple) এখন দেশটির চাকরিপ্রার্থীদের কাছে অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী এই মন্দিরে এসে ধূপকাঠি জ্বালাচ্ছেন, মন্ত্র জপ করছেন এবং বুদ্ধ মূর্তির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে কর্মজীবনে স্থায়িত্ব ও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

চিনের বাজারে চাকরির হাহাকার ও প্রতারণার ফাঁদ:

রিপোর্টে প্রকাশ, বর্তমান চিনে চাকরি পাওয়া মুখের কথা নয়। কর্মসংস্থানের বাজার এতটাই সঙ্কুচিত যে, মরিয়া তরুণ-তরুণীরা চাকরি খুঁজতে গিয়ে হামেশাই ভুয়া বা ফ্রড কোম্পানির ফাঁদে পড়ছে। এর ফলে বহু বেকারের পকেট থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত জালিয়াতি হয়ে যাচ্ছে। একদিকে কাজের চরম অভাব এবং অন্যদিকে প্রতারণার শিকার হয়ে তরুণ সমাজের মানসিক উদ্বেগ এখন চরমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘জব সিকিউরিটি’ বা চাকরির নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের হাতে কাজ জুটলেও কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দারুণভাবে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বাজারে প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আর সেই কারণেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রথাগত চেষ্টার পাশাপাশি এখন আধ্যাত্মিক উপায়ের ওপর ভরসা রাখছেন তাঁরা।

লাল ফিতায় বোনা ভবিষ্যৎ এবং হতাশার ছবি:

সাংহাইয়ের লংহুয়া মন্দিরে গেলেই চোখে পড়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য। মন্দিরের দেওয়ালে লাল ফিতায় নিজেদের মনের ইচ্ছা লিখে ঝুলিয়ে রাখছেন ভক্তরা। কেউ প্রার্থনা করছেন ভালো ফলাফলের জন্য, তো কেউ চাইছেন কাঙ্ক্ষিত চাকরি। যেমন, ২৩ বছর বয়সের তরুণী লি ইয়ংকিং। কলেজ পাস করে অনলাইনে বিউটি প্রোডাক্ট বিক্রির কাজ শুরু করার প্রায় এক বছর পর থেকেই তিনি নিয়মিত এই মন্দিরে আসেন। তাঁর সাফ কথা, বর্তমান বাজারে এই ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে মানসিক শান্তি বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

চিনের এই জ্বলন্ত পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, বেকারি এবং কর্মসংস্থানের চাপ শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা এক বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সাংহাইয়ের আধুনিক তরুণ-তরুণীদের প্রাচীন মন্দিরের শরণাপন্ন হওয়া সেই পরিবর্তনশীল ও কঠিন সামাজিক বাস্তবতারই এক নিখাদ ছবি তুলে ধরে, যেখানে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে চাকরির দরখাস্তের পাশাপাশি প্রার্থনার হাতও শক্ত করে আঁকড়ে ধরছে জেন-জি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *