১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসি! বিচারকের এই রায়কে ‘মাইন্ডলেস’ বলে বড় পদক্ষেপ হাইকোর্টের!

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় বিচারকদের স্বাধীনতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং তাদের জবাবদিহির প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা এবং পিরোজপুরের একটি পুরোনো মামলার রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের কিছু পর্যবেক্ষণের পর এই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
নুসরাত হত্যা মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ২০১৯ সালে ফেনীর নিম্ন আদালত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট সেই রায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের সাজা হ্রাস ও খালাস দিয়েছে। একই সঙ্গে, পর্যাপ্ত বিচারিক মন বা বিবেচনা না প্রয়োগ করে ঢালাওভাবে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট একে ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ বলে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পিরোজপুরের অপর একটি মামলায় জবানবন্দি নথিবদ্ধ করার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় অপর এক বিচারকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আইনি প্রক্রিয়া
আইনজীব ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারকদের জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে:
-
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অযোগ্যতা বা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত ও তাঁদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে এই সাংবিধানিক ব্যবস্থার হাতে।
-
হাইকোর্টের বিশেষ ক্ষমতা (অনুচ্ছেদ ১০৯): সংবিধান অনুযায়ী, অধস্তন সমস্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে হাইকোর্ট প্রশাসনিক বা বিচারিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
-
আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা: বিচারিক আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকদের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগ, গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত জরুরি।