সৌন্দর্যায়নের নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয়! দুর্গাপুরের ফোয়ারা আজ মশার লার্ভার বিশাল আঁতুড়ঘর!

শহরকে সুন্দর করে তোলার উদ্যোগ একসময় প্রশংসিত হলেও, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা কীভাবে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ তৈরি হয়েছে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে। বিগত দিনে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের আদলে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারকে সাজিয়ে তোলার মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সুসজ্জিত মূর্তি, মুখ-ঝরনা এবং রঙিন আলোর খেলায় ভরপুর সেই জাঁকজমক আজ সম্পূর্ণ অতীত। অযত্ন আর চরম অবহেলায় সেই সুন্দর পরিকাঠামো আজ এক ভয়াবহ ও কদর্য রূপ নিয়েছে।
মশার লার্ভার আঁতুড়ঘর ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
অভিযোগ উঠেছে, সিটি সেন্টারের বিভিন্ন মোড়ে বসানো ফোয়ারা ও সৌন্দর্যায়নের নানা স্থাপনার নিচে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে রয়েছে। অথচ সেই স্থানগুলি পরিষ্কার করার কোনো স্থায়ী উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। এর ফলে বর্ষার মরশুমে জমে থাকা সেই জল এখন মশার লার্ভার নিরাপদ আশ্রয় এবং ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। একদিকে যখন পুরসভা ও প্রশাসন সর্বত্র জল জমতে না দেওয়ার কড়া বার্তা দিচ্ছে, ঠিক তখনই শহরের বুকেই এমন বেহাল দশা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনছে সাধারণ মানুষের জন্য।
রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা
এই গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দুর্গাপুর-পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘড়ুই অভিযোগ করেছেন যে, আগের আমলে বেশিরভাগ কাজই পরিকল্পনা ছাড়া করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান কবি দত্তের বক্তব্য, শহরকে সুন্দর করে তোলার জন্যই ওই সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং বেশ কিছু কাজের দেখভালের দায়িত্ব ছিল বেসরকারি সংস্থার ওপর। তবে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া এই সমস্ত পরিকাঠামো কি তবে শুধুই অপচয়ে পরিণত হবে, নাকি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে শহর পরিষ্কার হবে—এখন সেটাই দেখার।