আর মাত্র ৬ মিটার দূরে গঙ্গা! যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে ১৯৬৮ সালের এই স্কুল!

মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি দিয়ারার পশ্চিম রতনপুর অঞ্চলে গঙ্গার ভাঙন ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদীর পার থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এলাকার একমাত্র প্রাথমিক স্কুলটি। যে গতিতে গঙ্গার গ্রাস এগিয়ে আসছে, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্কুলটি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এবং ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দফতরের আধিকারিক ও ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
কী বলছেন স্থানীয়রা ও প্রশাসন?
গত বছরই পশ্চিম রতনপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা গঙ্গার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ বছর বর্ষার শুরুতেই নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় প্রতিদিন নদীর পাড় ভেঙে ধসে পড়ছে। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে ইতিমধ্যেই নদীবাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এর আগে শুধু প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। এ দিন ভাঙনে সর্বস্ব হারানো হারাধন মাহাতো বিধায়কের কাছে স্থায়ী সমাধান ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। পাশাপাশি, সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে স্কুল রক্ষা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
বিধায়কের পুনর্বাসনের আশ্বাস
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূতনিতে ঘরছাড়া পরিবারগুলির জন্য একটি বিশেষ ‘মডেল ভিলেজ’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর দাবি, ভূতনিতে সাড়ে ১০ থেকে ১২ বিঘা সরকারি জমি পাওয়া গিয়েছে, যেখানে প্রায় ৫১৫টি পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ওই প্রস্তাবিত মডেল ভিলেজে বাসস্থানের পাশাপাশি শৌচাগার, টিউবওয়েল, সোলার লাইট এবং স্কুল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, ভাঙনের মুখে থাকা পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক স্কুলটি রক্ষা করতে সেচ দফতর কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। স্কুলটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে বিকল্প হিসেবে নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত গাছতলায় পড়াশোনা চালানোর ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভূতনিবাসীর একটাই দাবি—অস্থায়ী ত্রাণের পাশাপাশি গঙ্গার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অবিলম্বে বাস্তবায়িত হোক।