পুরভোটের প্রস্তুতি, সুকান্ত ও রাহুলকে দায়িত্ব ভাগ করে দিল BJP

আসন্ন পুরনিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। কেবল বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থেকে এবার সরাসরি মাঠে নেমে সাংগঠনিক কাজ শুরু করে দিতে চাইছে দলের রাজ্য নেতৃত্ব। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে কলকাতা এবং হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ইনচার্জ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে থাকছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে কো-ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি, হাওড়া পুরনিগমের ইনচার্জের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। কলকাতার ক্ষেত্রে কনভেনরের দায়িত্ব সামলাবেন তাপস রায় এবং কো-কনভেনর হয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধান কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি। অন্যদিকে, হাওড়ায় কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংকে।

কলকাতা নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন

আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। সেই সম্ভাব্য সময়কে মাথায় রেখে কলকাতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দল। পুরভোটের রণকৌশল তৈরি করতে ইতিমধ্যেই একটি পৃথক বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই কমিটির শীর্ষে রাখা হয়েছে তাপস রায়কে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি এবং স্বপন দাশগুপ্তের মতো দলের একাধিক পরিচিত মুখ ও কার্যকর্তা। কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কে যাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, মূলত তাঁদেরই এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এই বিশেষ কমিটির মূল কাজ হবে পুরভোটের প্রচারের রূপরেখা তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার নামা হবে এবং কীভাবে জনসংযোগ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি। শুধু প্রচারই নয়, বিজেপির পুরভোটের সংকল্পপত্র বা ইস্তাহার প্রস্তুত করার পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিধায়কদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

পুরভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে রাখতে এদিন কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণের বিধায়কদের নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুনীল বনসল, সুকান্ত মজুমদার এবং অমিতাভ চক্রবর্তী সহ দলের কোর কমিটির একাধিক হেভিওয়েট নেতা। সেখানে মূলত সংগঠন মজবুত করা, প্রচারের গতি বাড়ানো এবং ভোটের সার্বিক রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এত তৎপরতার কারণ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘিরেই বিজেপির এই বাড়তি তৎপরতা। সব ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরেই ভোট হতে পারে। তার আগে দলের সাংগঠনিক বুথস্তর পর্যন্ত দলকে পুরোপুরি সক্রিয় করে তুলতে চাইছে নেতৃত্ব। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে পুজোর মরসুম এবং তারপরে দীপাবলির উৎসব থাকায় শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো এড়াতেই এখন থেকেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে দল। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া পুরনিগমকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে তারা মোটেও হালকাভাবে নিতে নারাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *