ডাক্তার নন, রক্তদান শিবিরে পাঠানো হত মেডিক্যাল পড়ুয়াদের! ১২০০ টাকার মধ্যে পকেটে কত যেত ছাত্রনেতাদের?

রক্তদান শিবিরের মতো পবিত্র সমাজসেবামূলক কাজেও এবার দুর্নীতির চরম রূপ সামনে এল। শহর থেকে জেলা—একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কের অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে নেমে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেল রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। রক্ত দুর্নীতির নেপথ্যেও সক্রিয় ছিল ‘কাটমানি’র সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, আসল চিকিৎসকদের বদলে বিভিন্ন বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ডাক্তার সাজিয়ে রক্তদান শিবিরে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, রক্তদান শিবির পিছু যে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা বরাদ্দ করা হতো, তার বড় একটা অংশ চলে যেত প্রভাবশালী ছাত্রনেতাদের পকেটে। শিবির থেকে রক্তদান করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নামমাত্র ৮০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে, বাকি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হতো। এই গোটা চক্রের তদন্তে নেমে এসএসকেএম (SSKM), এনআরএস (NRS) এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের শতাধিক পড়ুয়ার নাম স্বাস্থ্য ভবনের স্ক্যানারে রয়েছে।

আদালতের নির্দেশে গত সোমবারই এন্টালির লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্কে হানা দেন স্বাস্থ্য দফতর, ড্রাগ কন্ট্রোল এবং অর্থ দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক মেডিক্যাল ছাত্রের একটি তালিকা উদ্ধার করা হয়। এরপর এনআরএস ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের চারজন ছাত্রকে স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। জেরার মুখে পড়ুয়ারা কাটমানি কাণ্ডের কথা স্বীকার করলে তাঁদের দিয়ে মুচলেকাও লিখিয়ে নেওয়া হয়।

কিভাবে চিকিৎসকের ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ভুয়ো মেডিক্যাল অফিসার সাজিয়ে বিভিন্ন শিবিরে পাঠানো হতো এবং এর নেপথ্যে কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। আগামী ২৮ আগস্ট আদালতের কাছে এই সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রক্ত দুর্নীতির এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে কপালে হাত পড়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *