পারিশ্রমিক চাইতে গিয়ে কাঠমিস্ত্রির ওপর চড়াও প্রাক্তন বিধায়ক! সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গুরুতর মারধরের অভিযোগ

অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীকে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এক সাধারণ কাঠমিস্ত্রিকে বেধড়ক মারধর করা, হুমকি দেওয়া এবং জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই কাঠমিস্ত্রি সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতার বেহালা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী কাঠমিস্ত্রি রাজ কাপুর শর্মার সুনির্দিষ্ট দাবি অনুযায়ী, তিনি অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে কাঠের ফার্নিচার তৈরির একটি কন্ট্রাক্ট নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কাজের শুরুর জন্য তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে একটানা কঠোর পরিশ্রম করে তিনি যখন কাজ প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেন, তখন তিনি তাঁর বাকি থাকা বকেয়া পারিশ্রমিক দাবি করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, টাকা পরিশোধ করার নাম করে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে ঘুরিয়ে বেড়ানো হচ্ছিল এবং কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান করা হচ্ছিল না।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত রবিবার সোহম চক্রবর্তীর বাড়ির এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে বলেন। সেই নির্দেশ মতো সোমবার তিনি অভিনেতার বাসভবনে উপস্থিত হন। সেখানে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর যখন তিনি তাঁর বাকি থাকা ৭9 হাজার টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানান, তখন তাঁকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে আর কোনো টাকা দেওয়া হবে না। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং তাঁর পকেট থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আতঙ্কিত কাঠমিস্ত্রি সোজা বেহালা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিনেতা বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সোহমের একাধিক ‘দাদাগিরি’ ও মারধরের ঘটনা জনসমক্ষে এসেছিল। অতীতে কলকাতার একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর মালিককে প্রকাশ্যে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বারবার এই ধরনের বিতর্কিত ঘটনায় নাম জড়ানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন যে সোহম একদিকে যেমন একজন জনপ্রিয় সেলিব্রিটি, তেমনই একসময়ের জনপ্রতিনিধিও বটে। জনসাধারণের আস্থার কথা মাথায় রেখে এ ধরনের অনভিপ্রেত অভিযোগ যাতে ভবিষ্যতে আর না আসে, সে বিষয়ে তাঁর অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল। সমাজ সেলিব্রিটিদের দেখে এবং তাঁদের ওপর বিশ্বাস রাখে। কোনো শ্রমজীবী মানুষ যদি পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা তৈরি করেন, তবে তার আইনসম্মত অন্য ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু এভাবে গায়ে হাত তোলা বা মারধর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।