২২ বছরের খরা কাটিয়ে ডুরান্ড জয় ইস্টবেঙ্গলের! ট্রফি জেতার পরই লাল-হলুদ কর্তাকে কার ফোন এল জানেন?

ফুটবলের নন্দনকানন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ ব্যবধানে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ১৭তম বারের জন্য ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে লাল-হলুদের এই ঐতিহাসিক ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে এখন উত্তাল গোটা ময়দান। আর এই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই তৈরি হয়েছে এক দারুণ মুহূর্ত। মাঠে জয় নিশ্চিত করার পর মুহূর্তেই ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত (নিতু) সরকারকে ফোন করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান খোদ ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
ম্যাচ শেষে যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন লাল-হলুদ কর্তা, ঠিক তখনই তাঁর মোবাইল ফোনে ভেসে ওঠে ‘দাদা’-র নাম। লাইভ ক্যামেরার সামনেই ফোন রিসিভ করে হাসিমুখে দেবব্রত বলেন, ‘‘থ্যাঙ্ক ইউ সৌরভ… থ্যাঙ্ক ইউ। না না, তোমার পছন্দ করা কোচ খারাপ হবে কী করে? তাহলে কি আর আমি ওঁকে নিতাম? আমার তো এই কোচের ওপর অনেক দিন থেকেই কড়া নজর ছিল!’’ লাল-হলুদের এই ডুরান্ডজয়ী স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসকে দলে নেওয়ার পেছনে সৌরভের কোনো বিশেষ পরামর্শ ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
বাইরের সমালোচকদের একহাত নিয়ে দেবব্রত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ইস্টবেঙ্গল ফাঁকা হুঙ্কারে বিশ্বাসী নয়। তাঁর কথায়, ‘‘ইস্টবেঙ্গল সব সময় মাঠের পারফরম্যান্সে বিশ্বাস করে। বাইরে চিৎকার করে কোনো লাভ নেই, মাঠেই আসল জবাবটা দিতে হয়।’’ চলতি টুর্নামেন্টের শুরুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারলেও যে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বিন্দুমাত্র টলেনি, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেদিনই তিনি সহকর্মীদের কথা দিয়েছিলেন যে ফাইনালে ডার্বি জিতেই ট্রফি তুলবে দল।
ফাইনালে মাঠে নেমে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করা তরুণ ফুটবলার এডমুন্ড লালরিনডিকার অবদানকেও আলাদা করে কুর্নিশ জানিয়েছেন ক্লাব কর্তারা। চোটের কঠিন সময়েও এই যুবকের ওপর আস্থা রাখার ফল যে হাতেনাতে মিলেছে, তা বলাই বাহুল্য। স্টেডিয়ামের লড়াই শেষে টিম হোটেলে কেক কেটে উদযাপনের পাশাপাশি সোমবার লাল-হলুদ তাঁবুতেও সমর্থকদের নিয়ে দিনভর জমজমাট উল্লাসের আয়োজন করা হয়েছে। ২২ বছর পর ঘরে ফেরা এই ট্রফি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে যে এক ঐতিহাসিক প্রাপ্তি, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।