ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটাতে আদালতের সময় নষ্ট নয়, ১১ বছরের আইনি লড়াইয়ে দুই পক্ষকেই ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা সুপ্রিম কোর্টের

ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানো কিংবা নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার আইনি লড়াইয়ে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা বরদাস্ত করা হবে না। এক প্রবীণ আইনজীবী এবং তাঁর প্রাক্তন মক্কেলের মধ্যে চলা দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি টানাপড়েনের মামলার শুনানিতে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে এমনই কড়া বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই ধরনের ‘বিলাসিতার মামলা’ বা লাক্সারি লিটিগেশন (Luxury Litigation) আসল বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার গতিকে শ্লথ করে দেয়— এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট জানিয়ে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ দুই পক্ষকেই ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। এক মহিলা তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদের জেরে মুম্বইয়ের মালাড পুলিশ স্টেশনে গেলে এক শীর্ষ পুলিশ কর্তার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে ওই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্থার চেষ্টার অভিযোগ তুলে আইনি সহায়তার জন্য এক আইনজীবীর শরণাপন্ন হন ওই মহিলা। সমস্ত গোপন তথ্য ও প্রমাণ তিনি সেই আইনজীবীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগকারী মহিলার দাবি, ওই আইনজীবী পেশাগত গণ্ডি লঙ্ঘন করে তাঁর অনুমতি ছাড়াই সেই গোপনীয় তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দেন।

এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ (BCI)-র দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। বার কাউন্সিলের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ওই আইনজীবীকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর লাইসেন্স দু’বছরের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং বার কাউন্সিলকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বার কাউন্সিলের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দুই পক্ষই প্রথমে বম্বে হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলা এই মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানির পর দুই পক্ষকেই তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশের আইনি ব্যবস্থা কারও ব্যক্তিগত হিসাব মেটানোর জায়গা নয়। দুই পক্ষই আদালতকে সঠিক তথ্য না দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করেছে। বার কাউন্সিল, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের এই ১১ বছর সময় নষ্ট করার জন্য শাস্তি হিসেবে উভয় পক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটি’-তে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *