রাজকোষে টান নাকি ভোটমুখী চমক? পেঁয়াজের চড়া দামের মাঝে কেন্দ্রের কোন বড় সিদ্ধান্তে স্বস্তি?

আসন্ন উৎসবের মরশুমের আগে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে এর ফলে নতুন করে টান পড়তে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর গত এক বছরে এই হার প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। দিল্লি ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে তোলা রবি শস্য অক্টোবর মাস পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর কথা থাকলেও তা শেষের পথে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে মার্চ ও এপ্রিল মাসে অসময়ে বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির কারণে দেরিতে রবি ফসলের ফলন হওয়ায় মজুত করা পেঁয়াজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, বর্ষার আগমনে দেরি হওয়ায় নাসিকসহ বিভিন্ন অঞ্চলে খরিফ শস্যের ফলনও পিছিয়ে গেছে, যার জেরে বাজারে হঠাৎ জোগানে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র বাজারে পেঁয়াজের বাফার স্টক বা মজুত বাড়ানোর চেষ্টা চালালেও চড়া দামের কারণে সরকারের সংগ্রহের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ কমাতে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ নামে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে মোদি সরকার। এই বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে নাসিক থেকে দিল্লি, চেন্নাই, কোচি এবং গুয়াহাটির মতো বড় ভোগ্যকেন্দ্রগুলিতে দ্রুত পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয়। নতুন ফসল বাজারে না আসা পর্যন্ত দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *