আইফোনের ইএমআইয়ের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি! পাহাড় চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে শেষ গোটা পরিবার, মৃত্যুর আগে ইউটিউবে কী বলেছিলেন মা?

নতুন কেনা আইফোনের ইএমআই (EMI) পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক বচসার জেরে মহারাষ্ট্রে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৫০ ফুট নিচে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বাবা ও ১৮ বছরের তরতাজা যুবকের। স্বামী ও একমাত্র ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু চোখের সামনে দেখে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঝাঁপ দেন মা-ও। এই নৃশংস ও করুণ পরিণতিতে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ।
কী ঘটেছিল সেদিন? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের কোহদ্যা ডোঙ্গার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি একটি নতুন আইফোন কিনেছিল দম্পতির ১৮ বছর বয়সি একমাত্র ছেলে কুণাল। সেই নতুন ফোনের ইএমআইয়ের টাকা দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের ওপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করছিল সে। এই নিয়ে বাড়িতে তীব্র অশান্তি ও বচসা হয়।
এরই জেরে অভিমান বা জেদ করে কুণাল সোজাসুজি চলে যায় স্থানীয় এক পাহাড়ের চূড়ায়। ছেলে বিপজ্জনক জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে টের পেয়েই বিপদের আশঙ্কা করেন বাবা মুরলিধর ছান্দগুড়। দ্রুত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড় চূড়ায় ছুটে যান তিনি। মুরলিধর ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা দুজনেই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও কুণালকে শান্ত করার চেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; পাহাড় চূড়া থেকে নিচে পড়ে মৃত্যু হয় বাবা ও ছেলের। স্বামী ও সন্তানের নিথর দেহ দেখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেই পাহাড় থেকে নিচে ঝাঁপ দেন মা সঙ্গীতাও।
মৃত্যুর একদিন আগেই ভাইরাল ইউটিউব ভিডিও! প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনার ঠিক একদিন আগেই ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন মা সঙ্গীতা ছান্দগুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন সঙ্গীতা। নিয়মিত মোটিভেশনাল ভিডিও পোস্ট করতেন তিনি এবং ইউটিউবে তাঁর প্রায় ২৯ হাজার ফলোয়ার ছিল। এমনকি তাঁর পোস্ট করা শর্ট ভিডিওগুলিতে তাঁর ছেলে কুণালকেও দেখা গিয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার পোস্ট করা তাঁর শেষ ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। মারাঠি ভাষায় রেকর্ড করা ওই ভিডিওতে জীবনের সম্পর্কের মূল্য ও কদর নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। ভিডিওতে সঙ্গীতাকে বলতে শোনা যায়, ‘কেউ যদি ভালোবাসার দাম না দেয়, তবে সেই মানুষটির জন্য কিছু করার কোনো অর্থ হয় না। নিজের সর্বস্ব ঠিক সেই মানুষটির জন্যই দেওয়া উচিত, যে ভালোবাসার প্রকৃত মূল্য দেয়।’
সঙ্গীতার সেই সতর্কবার্তার বার্তাটি আজ এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আইফোনের লোভ ও জেদের বলি হয়ে নিমেষেই চিরকালের মতো নিভে গেল একটি পুরো পরিবার।
বিশেষ আপডেট: এই মর্মান্তিক ঘটনা ও পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আপনার কী মত? কমেন্ট করে জানান আপনার প্রতিক্রিয়া এবং সমস্ত টাটকা খবরের আপডেটে চোখ রাখুন আমাদের সাথে।