বাংলায় প্রতিরক্ষায় রেকর্ড বিনিয়োগ! ৩,৪০০ কোটির পাঁচ মেগা প্রকল্পের ভূমিপুজো সারলেন রাজনাথ-শুভেন্দু

ছুটির এক রবিবারে কলকাতা সাক্ষী থাকল দেশের প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণ খাতের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। কলকাতার বুকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এল বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শহরের একাধিক প্রান্তে একসঙ্গে পাঁচটি নতুন ইউনিটের ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা প্রকল্পের আওতায় মোট পাঁচটি আলাদা ইউনিট গড়ে উঠছে গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে এই রাজ্যেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একে বাংলার জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে রাজ্যে প্রচুর বিনিয়োগ আসছে। এই প্রকল্পের শিলান্যাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ নিজে উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহিত করেছেন। আজ পাঁচটি প্রকল্পের ভূমিপুজো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য একসঙ্গে মিলে বাংলার উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।” এরপরই পূর্ববর্তী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে তৎকালীন সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী ছিল না। সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফের জমি সংক্রান্ত বিষয়েও আগের প্রশাসন উদাসীন ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সেই নেতিবাচক রাজনীতির দিন এখন অতীত দাবি করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে এবং এখানে জমির আর কোনও বাধা নেই। বাংলার মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে এবং শিল্পের গতি বাড়াতে সরকার সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও বাংলার শিল্পায়ন ও অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হলো। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এই ধরনের মেগা প্রকল্প জাতীয় নিরাপত্তাকে যেমন মজবুত করবে, তেমনই বাংলার অর্থনীতিকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে বিনিয়োগের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে যেখানে বাংলা থেকে শিল্প চলে যাওয়ার বা বন্ধ হওয়ার খবর আসত, সেখানে আজ কেবল নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের ইতিবাচক খবরই মিলছে। সবমিলিয়ে, রবিবারের এই অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা ও জাহাজ নির্মাণ খাতের হাত ধরে বাংলার বাতাসে সত্যি যেন এক নতুন উন্নয়নের সুবাস বইতে শুরু করেছে।