লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এই জনপ্রিয় স্কিমে ৯৬০০ কোটির কেলেঙ্কারি! আসল সত্যিটা জানলে চোখ কপালে উঠবে

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বহু যোগ্য আবেদনকারীর কাছে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। তবে এই প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাইয়ে রাজ্য সরকার যে চরম সতর্কতা ও ঝাড়াই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। আর এই পদক্ষেপের সপক্ষে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে ভিন রাজ্যের একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র। ঠিক পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই মহারাষ্ট্র সরকারের ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা এখন গোটা দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

মহিলার আর্থিক স্বনির্ভরতাকে লক্ষ্য রেখে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকার ‘লড়কি বহিন’ যোজনা চালু করেছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রে মহাযুতি সরকারের জয়ের পেছনে এই জনকল্যাণমূলক স্কিমের একটি বড় অবদান ছিল। কিন্তু এত বড় সাফল্যের মাঝেই এবার প্রকল্পের অন্দরে এক বিশাল ফাঁকফোকর ও গরমিলের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

তথ্যের অধিকার (RTI) আইনে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে যে, গত দুই বছরে একাধিকবার তালিকা যাচাইয়ের পরেও এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯২ লক্ষ অযোগ্য মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারের কোষাগার থেকে টাকা চলে গিয়েছে। এর জেরে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৯৬০৫ কোটি টাকা বেহাত হয়েছে বলে অভিযোগ। মূলত যে সমস্ত মহিলা আর্থিকভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল, তাঁরাও নিয়মের তোয়াক্কা না করে এই সুবিধার সুযোগ নিয়েছেন। এমনকি এই অযোগ্য উপভোক্তাদের প্রায় ৬২ লক্ষের বেশি মানুষ এখনও পর্যন্ত সঠিক কেইওয়াইসি (KYC)-ও সম্পূর্ণ করেননি।

পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু হলে এই বিশাল জালিয়াতি সামনে আসে এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিন রাজ্যের এই ঘটনার পরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই সরকারি টাকার অপব্যবহার না হয় এবং প্রকৃত যোগ্যরাই এই প্রকল্পের সুফল পান, তার জন্যই তালিকা ছাঁটাইয়ের ওপর এই কড়াকড়ি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *