স্বাধীনতার দিনে শিক্ষক ও ছাত্রীদের কাণ্ড! জলের মধ্যে নগ্ন হয়ে স্নানের ভিডিও ভাইরাল হতেই তুলকালাম

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পবিত্র দিনে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং নৈতিকতা নিয়ে এক গুরুতর ও লজ্জাজনক প্রশ্ন তুলে দিল রাজস্থানের আলওয়ারের একটি ঘটনা। সরকারি স্কুলের এক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে শোরগোল পড়ে গেছে পুরো এলাকায়। ভ্রমণ ও সাঁতার শেখানোর নাম করে ছাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।

ঘটনাটি ঘটেছে আলওয়ারের থানাগাজি এলাকার একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান সাফল্যের সঙ্গে শেষ হওয়ার পর, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভাদাজ বাঁধের কাছে নিয়ে যান। ওই সময় সেখানে ২০ থেকে ২৫ জন নাবালিকা ও যুবতী ছাত্রী উপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ।

শিক্ষকদের দাবি ছিল, শিশুদের ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সাঁতার শেখানো হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, যে এলাকায় শিশুদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার নিরাপত্তা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে। বাঁধের পাড় অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় অতীতেও সেখানে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া গত চার বছর ধরে ওই এলাকায় সাধারণের প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিশুদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাদের কাছে কোনো লাইফ জ্যাকেট বা ন্যূনতম নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল না।

তবে এই ঘটনার আসল মোড় ঘোরে যখন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের সঙ্গে বাঁধের জলে আপত্তিকর ও নগ্ন অবস্থায় স্নান করছেন। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে দ্রুত স্কুলে গিয়ে চড়াও হন এবং পুলিশকে খবর দেন।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নড়েচড়ে বসেছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষকের এই আচরণকে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের চরম পরিপন্থী বলে মনে করা হয়েছে। এর পরই অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এদিকে থানাগাজি থানার পুলিশ আধিকারিক রাজকুমার মীনা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যক্ষের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবার থেকে সরাসরি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে প্রমাণ হিসেবে ধরে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র জায়গায় এমন লজ্জাজনক ঘটনায় এখন গোটা এলাকায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *