গোয়া যাওয়ার আনন্দ নিমেষে পরিণত হল বিষাদে! বেঙ্গালুরু থেকে পড়ুয়া বোঝাই বাস খাদে পড়ে মৃত ৩, আহত বহু

গোয়া ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তে মিলিয়ে গেল বিষাদে। এক লহমায় বদলে গেল গোটা ছবিটা। একদল ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া একটি পর্যটক বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। শুক্রবার ভোররাতে কর্নাটকের চিত্রদুর্গ জেলার হিরিয়ুর তালুকের আইমঙ্গালার কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা খাদে গিয়ে উল্টে যায় বাসটি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনের প্রাণহানির খবর মিলেছে এবং আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন যাত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে মোট ৫৩ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। যার মধ্যে ৪৯ জন ছাত্রছাত্রী, দু’জন শিক্ষক এবং একজন অশিক্ষক কর্মী ছিলেন। বেঙ্গালুরু থেকে গোয়ার দিকে যাওয়ার পথে আইমঙ্গালার কাছে জাতীয় সড়কে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাঁ দিকে থাকা একটি গভীর খাদে পড়ে যায় বাসটি। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আহত যাত্রী জানান, “আমরা সবাই গোয়া যাচ্ছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ বাসের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনি অনুভব করি এবং সকলে চিৎকার শুরু করে দেন। এরপর স্থানীয় কিছু মানুষ এগিয়ে এসে বাসের জানলার কাচ ভেঙে আমাদের বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেন।”
ব্যস্ত জাতীয় সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে আইমঙ্গালা থানার পুলিশ। গাড়িটির গতি অতিরিক্ত ছিল কি না, চালক ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, নাকি রাস্তার কোনও খানাখন্দ বা যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে এই বিপত্তি— সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তবে মৃত ও আহতদের পরিচয় এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।