প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা জমিয়েই হতে পারেন কোটিপতি! মিউচুয়াল ফান্ডের কোন জাদুকরী টোটকায় বদলাবে ভাগ্য?

ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন কে না দেখেন! কিন্তু ফিক্সড ডিপোজিট বা গতানুগতিক সঞ্চয়ে সবসময় সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত ও দ্রুত বিনিয়োগের উপরেই জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বড় কোনো পুঁজি ছাড়াই কীভাবে ছোট্ট একটি অভ্যাসের মাধ্যমে বিশাল বড় ফান্ড গড়ে তোলা সম্ভব, তার দারুণ এক হিসাব সামনে এসেছে। প্রতিদিনের সামান্য খরচ বাঁচিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে কীভাবে কোটিপতি হওয়া যায়, তার সহজ সমীকরণ প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিদিন ১০০ টাকার সঞ্চয় কীভাবে তৈরি করবে বড় ফান্ড?
সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য রেখেই এসআইপিতে বিনিয়োগ করা উচিত। ধরা যাক, কেউ যদি প্রতিদিন মাত্র ১০০ টাকা করে জমান, তবে মাসে সেই জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩,০০০ টাকা। এই ছোট অংকটিই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে বিশাল বড় ফান্ডে পরিণত হতে পারে।

এসআইপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে চক্রবৃদ্ধি হারে (Compounding) সুদ বা রিটার্ন পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আপনি যে রিটার্ন পাচ্ছেন, তার উপরেও পুনরায় রিটার্ন যোগ হতে থাকে।

সময়ের হিসেবে রিটার্নের অঙ্ক কেমন হতে পারে?
১০ বছরের বিনিয়োগ: কেউ যদি টানা ১০ বছর ধরে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে জমিয়ে এসআইপিতে বিনিয়োগ করেন, তবে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এর ওপর যদি বার্ষিক আনুমানিক ১২% হারে রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে মেয়াদ শেষে সেই টাকা বেড়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৫ হাজারে গিয়ে পৌঁছবে।

২০ বছরের বিনিয়োগ: বিনিয়োগের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ বছর করলে প্রতিদিন ১০০ টাকা জমানোর ফলে মোট বিনিয়োগ হবে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। আর এই দীর্ঘমেয়াদে মোট রিটার্নের পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৩০ লক্ষ টাকা।

৩০ বছরের ম্যাজিক: আপনি যদি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই নিয়ম বজায় রেখে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে এসআইপিতে বিনিয়োগ করে যান, তবে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা। কিন্তু চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুকরী প্রভাবে এই দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভাব্য রিটার্নের পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে ১ কোটিরও বেশি! কারণ দীর্ঘ সময় ধরে টাকা খাটলে অ্যাসেটের বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হয়।

অতএব, প্রতিদিনের ছোট ছোট বা ফালতু খরচ বাঁচিয়ে সেই অর্থ সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে তা যে অদূর ভবিষ্যতে জীবনের বড় আর্থিক সুরক্ষা হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুঁজিবাজারে বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সবসময়ই ঝুঁকিসাপেক্ষ। প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে। তাই যেকোনো ধরনের আর্থিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজস্ব আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *