কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে রাজ্য সরকারকে বড় ধাক্কা হাই কোর্টের! ২০১১ সালের পর জারি হওয়া শংসাপত্র নিয়ে কী নির্দেশ?

রাজ্যে ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট পুনর্যাচাইয়ের রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে বড়সড় বাধা পড়ল। গত মে মাসে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের জারি করা সেই বিজ্ঞপ্তির উপর অবশেষে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। এর ফলে পরবর্তী আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি (SC, ST and OBC) সার্টিফিকেট যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় আপাতত স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।
ঠিক কী ছিল রাজ্যের নির্দেশ?
চলতি বছরের গত ১৪ মে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যে যত তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য পিছিয়ে থাকা শ্রেণী বা ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলির সবকটিই ফের যাচাই করে দেখতে হবে। কোনো শংসাপত্র ভুয়ো প্রমাণিত হলে তা তৎক্ষণাৎ বাতিল করার কথাও জানিয়েছিল রাজ্য সরকার।
হাইকোর্টে মামলা ও উভয় পক্ষের সওয়াল:
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করে জানান যে, এই ধরনের শংসাপত্র বাতিল করার কোনো এক্তিয়ার বা ক্ষমতা রাজ্যের নেই। অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ নাথ মিত্র পাল্টা দাবি করেন যে, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং পারিবারিক অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি অধিকার রাজ্যের রয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও ব্যতিক্রম:
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ মে মাসের ওই বিজ্ঞপ্তির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে এসসি, এসটি ও ওবিসি সার্টিফিকেট যাচাই করা যাবে না।
তবে এর পাশাপাশি আদালত একটি বিশেষ নির্দেশও দিয়েছে। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সরকারের কাছে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার আধিকারিকরা তা তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আদালতের এই রায়ের ফলে রাজ্যজুড়ে শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আপাতত থমকে গেল।