তারাপীঠে হোটেল ব্যবসায় বড় ধাক্কা! এক নিমেষে সিল ১৫টি লজ, তালিকায় আপনার পরিচিত হোটেলটি নেই তো?

তারাপীঠের এক হোটেলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে তারাপীঠের মোট ১৫টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে সেগুলিকে সিল করার নির্দেশ দিলেন রামপুরহাটের এসডিও (SDO)। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে পর্যটন মানচিত্রে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
প্রশাসন সূত্রে খবর, তারাপীঠের বিভিন্ন হোটেল ও লজে নিয়মিত অগ্নি সুরক্ষা সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল। সেই পরিদর্শনেই ধরা পড়ে যে, ওই হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং বেশিরভাগেরই দমকলের দেওয়া বৈধ ছাড়পত্র বা দমকলের সার্টিফিকেট নেই। এসডিও-র দাবি, এই হোটেলগুলিকে নিয়ম মেনে সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি বারবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও হোটেল কর্তৃপক্ষগুলি কোনো যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে জনস্বার্থেই এই কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে জেলা প্রশাসন।
কোন কোন হোটেল বন্ধ করা হলো?
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী যে ১৫টি হোটেল ও লজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
আদর্শ হোটেল, নকুলচন্দ্র লজ, শৈলেন ভবন, গীতশ্রী গেস্ট হাউস, বীরভূম লজ, হরেকৃষ্ণ ভবন, গিরিধারী ভবন, হোটেল দেব, তাপ্তি লজ, ভোলানাথ ভবন, আনন্দ ভবন, স্বস্তিক নিবাস, সন্দীপ লজ, কেশরী লজ এবং দত্ত ভবন।
উল্লেখ্য, তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। পর্যটকদের জীবনহানির ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন ভবিষ্যতে প্রতিটি হোটেল ও লজের নথিপত্র ও অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযানে আপাতত হোটেল মালিকদের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।