টালির চালের ফুটো দিয়ে জল পড়া ঘরেই এল সুখবর! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রৌঢ়া

টালির চাল ভেদ করে ঘরে জল পড়ে, ত্রিপল টানিয়ে কোনোমতে দিন গুজরান করেন হুগলির চুঁচুড়া বড়বাজারের বাসিন্দা প্রৌঢ়া অন্নপূর্ণা কাহার। পরের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে ওষুধ, গ্যাস আর ইলেকট্রিকের বিল মেটাতেই মাসের শেষে হাত ফাঁকা হয়ে যায় তাঁর। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে অবশেষে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র টাকা হাতে পেলেন তিনি। এই খুশির খবরে একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে প্রৌঢ়ার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও অন্নপূর্ণার প্রতিক্রিয়া
রাজ্য সরকার মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই আবেদন করেছিলেন অন্নপূর্ণা কাহার। তবে প্রথম দফায় তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় কপাল পুড়বে ভেবে মনক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অবশেষে সোমবার তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে।

খবরে প্রকাশ পাওয়া মাত্রই খুশিতে চিকচিক করে ওঠে তাঁর চোখের কোণ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, “খুব দরকার ছিল। আনন্দ পেলাম। বিকেলে ঘুম থেকে উঠেই জানতে পারি। অনেক উপকার হবে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাঁর বয়স বাড়ায় আগামী দিনে পরিচারিকার কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, তাই এই আর্থিক সাহায্য তাঁর অন্তিম বয়সের বড় ভরসা হয়ে উঠবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওঁর খুবই দরকার ছিল। অন্নপূর্ণা যোজনা পেয়েছেন এতে আমরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর সরকার যে কাজ করেছে, এটা খুবই ভালো। অন্নপূর্ণার মতো যাঁরা আছেন, তাঁরা সবাই পাবেন। এটা আমরা আশা করি।” পাশাপাশি, বিজেপি নেতা সপ্তর্ষী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া গরিব ও প্রকৃত অভাবী মানুষের জন্যই এই প্রকল্প, যাতে এমন মহিলারা সঠিকভাবে উপকৃত হন, সেটাই তাঁদের কাম্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *