স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও এই হাল! গ্রামের সরকারি স্কুলের বেহাল দশা দেখে কেঁদে ফেললেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা

স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও দেশের গ্রামীণ এলাকার সরকারি স্কুলগুলির ছবিটা যে কতটা করুণ, তার ফের এক বাস্তব চিত্র সামনে এল। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘স্কুল ঠিক করুন’ অভিযান। নিজ গ্রামের সরকারি স্কুলের এই বেহাল দশা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

জন্মভিটেই শিক্ষার বেহাল ছবি
অভিজিৎ দীপকের বাবা-মা দুই দশক আগে হিঙ্গোলি ছেড়ে সম্ভাজিনগরে চলে গেলেও, নিজের গ্রামে এসে পতাকা উত্তোলনের সুযোগ পেয়ে তিনি যেমন গর্বিত হয়েছেন, তেমনই সেখানকার সরকারি বিদ্যালয়ের দৈন্যদশা দেখে সমানভাবে ব্যথিত হয়েছেন। তাঁর আক্ষেপ, স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের শিশুরা পড়াশোনার জন্য একটি ন্যূনতম পরিকাঠামোযুক্ত ভালো স্কুল পাচ্ছে না।

অভিযানের সূচনা করে তিনি জানান, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ৯৪,০০০ স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ আজও অজস্র বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ, পানীয় জল কিংবা ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার চরম অভাব রয়েছে।

শিক্ষকদের কাজ শুধু পড়ানো হোক: অভিজিৎ দীপকে
শিক্ষাব্যवस्था সংস্কারের দাবি তুলে অভিজিৎ স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষকদের একমাত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো শিক্ষাদান করা। অন্যান্য প্রশাসনিক বা অতিরিক্ত কাজের জন্য আলাদা কর্মী নিয়োগ করা উচিত, যার মাধ্যমে দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে এর মাঝেই স্বস্তির খবর হলো, সান্তুক পিম্পরির সরপঞ্চ আগামী আট দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য সরপঞ্চকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

‘স্কুল ঠিক করুন’ প্রচারের মূল উদ্দেশ্য
গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা বদলাতে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সিজেপি। এই প্রচারাভিযানের মূল লক্ষ্যগুলি হলো:

গ্রামের প্রধান ও গ্রামবাসীদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়গুলির ঘাটতি চিহ্নিত করতে উৎসাহিত করা।

বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং মিড-ডে মিলের গুণমানের ওপর বিশেষ নজর রাখা।

সরপঞ্চরা স্কুল পরিদর্শন করে উন্নতির আগের ও পরের ছবি শেয়ার করবেন, যাতে অন্য গ্রামগুলিও তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও আপলোড করে বা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে বিদ্যালয়ের ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আনতে পারবেন।

নিম্নমানের পরিকাঠামোর কারণে গ্রামের কোনো শিশুই যাতে সঠিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *