হরমুজ প্রণালী কার মুঠোয়? ট্রাম্পের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবির জবাবে তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি!

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কৌশলগত এই সমুদ্রপথের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটনের সেই দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে ইরানের এখতিয়ারভুক্ত এবং তাদের শর্ত পূরণ না হলে এই পথ দিয়ে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তত্ত্ব ও আমেরিকার হুংকার
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর আমেরিকার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও বজায় রাখা হবে। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর এই নৌ অবরোধকে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন যে, এর বিরুদ্ধে ইরান চাইলেওচ্ছু করতে পারবে না।

শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথও পানামা সিটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ রাখা হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধজাহাজ পর্যায়ক্রমে বদলি করে এই অবরোধ আরও দীর্ঘস্থায়ী করার হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ
আমেরিকার এই একতরফা দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বাসিজ বাহিনীর প্রধান হোসেইন তায়েব ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, কৌশলগত এই জলপথ এখনও সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যেই রয়েছে।

একই সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির গলাতেও। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি তোপ দেগে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে ভুল থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভুল হিসাব করে আসছে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে তারা আরও বড় ভুল পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য বেনহাম সাঈদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধ হোক কিংবা শান্তি—ইসরায়েলি বা মার্কিন সামরিক কোনো জাহাজকেই এই প্রণালী দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো আশঙ্কার কালো মেঘ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে এই ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের পূর্বনির্ধারিত রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আমেরিকা ও ইরানের এই অনমনীয় মনোভাব আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *