বিদেশে সোনা বা সম্পত্তি লুকিয়ে রেখেছেন? ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ না করলে সর্বস্বান্ত হবেন!

বিদেশে সম্পত্তি বা আয় রয়েছে অথচ আইটিআর (ITR)-এ তা দেখাতে ভুলে গেছেন বা গোপন রেখেছেন—এমন ছোট করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড (CBDT)। যাঁদের ছোট অঙ্কের বিদেশি সম্পদ বা আয় অপ্রকাশিত রয়ে গেছে, তাঁদের জন্য সরকার নিয়ে এসেছে নতুন এক বিশেষ স্কিম। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস জারি করেছে ‘ক্ষুদ্র করদাতাদের জন্য বৈদেশিক সম্পদ – প্রকাশ প্রকল্প বিধিমালা, ২০২৬’। আগামী ১৬ অগস্ট, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলা এই প্রকল্পের আওতায় করদাতারা তাঁদের পুরোনো ভুল শুধরে নেওয়ার দুর্দান্ত সুযোগ পাবেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে এই সুবিধা?
মূলত চার ধরনের অঘোষিত বৈদেশিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এই স্কিমের সুফল পাওয়া যাবে:

যে সমস্ত বিদেশি সম্পদ পূর্বে কর রিটার্নে ঘোষণা করা হয়নি।

কর বিভাগে তথ্য না জানানো কোনো বিদেশি আয়।

কোনো ব্যক্তি অতীতে ভারতের বাসিন্দা (Non-Resident) থাকাকালীন যে সম্পত্তি কিনেছিলেন, অথচ পরবর্তীকালে ভারতের আবাসিক হওয়ার পর তা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অতীতে কর পরিশোধ করা আয় ব্যবহার করে বিদেশে সম্পত্তি কেনা সত্ত্বেও যারা তা আইটিআর-এ দেখাতে ভুলে গেছেন।

১ কোটি ও ৫ কোটির আর্থিক সীমা
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে সম্পদের পরিমাণের নির্দিষ্ট কিছু ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অঘোষিত বিদেশি আয় এবং অপ্রকাশিত বিদেশি সম্পদের মোট ন্যায্য বাজার মূল্য কোনোভাবেই ১ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না।

অনাবাসী থাকাকালীন অর্জিত সম্পত্তি অথবা পূর্বে কর দেওয়া আয় দিয়ে কেনা সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। সম্পদের মূল্য এই নির্ধারিত সীমার বেশি হলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না।

কর ও জরিমানার অঙ্ক কেমন?
১ কোটি টাকার ক্যাটাগরির করদাতাদের ক্ষেত্রে অঘোষিত সম্পদ বা আয়ের মূল্যের ওপর ৩০ শতাংশ কর এবং তার সমপরিমাণ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে সম্পদ মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ প্রদেয় হতে পারে। অন্যদিকে, ৫ কোটি টাকার ক্যাটাগরির কাঠামোগুলি সম্পূর্ণ আলাদা। কিছু ক্ষেত্রে ফি শূন্য হলেও ক্ষেত্রবিশেষে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট ফি প্রযোজ্য হতে পারে। এই দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে আলাদা কোনো অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হবে না।

মামলা থেকে মিলবে রেহাই
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করলে এবং ঘোষণা বৈধ বলে বিবেচিত হলে করদাতারা ‘কালো টাকা আইন, ২০১৫’-এর অধীনে পরবর্তী সমস্ত কর, জরিমানা এবং আইনি মামলা থেকে বড় ধরণের অব্যাহতি পাবেন। পুরোনো আইনি ঝামেলা চুকিয়ে ফেলার জন্য এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান সুযোগ।

আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ
করদাতাদের অনলাইনের মাধ্যমে ফর্ম ১-এর সাহায্যে এই ঘোষণা জমা দিতে হবে। আবেদন করার শেষ তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬। এরপর আয়কর বিভাগ ফর্ম ২-এর মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য অর্থের হিসাব জানাবে। সেই অর্থ সুদহীনভাবে মেটানোর জন্য দুই মাস সময় পাবেন করদাতারা। এরপরেও অতিরিক্ত আরও দুই মাস সময় পাওয়া যেতে পারে, তবে সেই বর্ধিত সময়ে বকেয়া অর্থের ওপর প্রতি মাসে ১ শতাংশ হারে সুদ লাগবে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি বাতিল বলে গণ্য হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *