চারপাশে প্রিয়জনদের ভিড়, অথচ সে একা! সেনার সেই অসহায় কান্নায় চোখে জল আনবে আপনারও

ইন্দোনেশীয় সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর সৈন্যদের জন্য আয়োজিত বিশেষ ওই অনুষ্ঠানে চারদিকে যখন আনন্দ ও গর্বের আবহ, ঠিক তখনই এক তরুণ সৈন্যের নিঃসঙ্গতা মন কেড়েছে নেটিজেনদের।
অনুষ্ঠানে বেশিরভাগ তরুণ সৈন্যের সঙ্গে তাঁদের বাবা-মা, সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই যখন প্রিয়জনদের সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্তটি উদযাপনে ব্যস্ত, তখন ওই যুবকটি ভিড়ের থেকে কিছুটা দূরে একা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর মুখে ছিল এক অদ্ভুত নীরবতা এবং চোখে চাপা আবেগ।
যখন একাকীত্ব ভেঙে কান্না এল
ভিড়ের মাঝে ওই তরুণকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁর পরিস্থিতি বুঝতে বিন্দুমাত্র দেরি হয়নি ওই কর্মকর্তার। তিনি সোজা তরুণের কাছে যান, তাঁকে নিজের কাছে ডেকে নেন এবং উষ্ণভাবে বুকে জড়িয়ে ধরেন। সেটি কোনো প্রথাগত সামরিক অভিবাদন ছিল না, বরং ছিল স্নেহের এক পিতৃতুল্য অঙ্গভঙ্গি।
প্রাথমিকভাবে নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করলেও হঠাৎ পাওয়া সেই ভালোবাসা এবং গভীর একাকীত্বের কাছে হার মানে তরুণের শক্ত মনোবল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর বাঁধভাঙা কান্না বেরিয়ে আসে। কর্মকর্তার কাঁধে মুখ গুঁজে তিনি শিশুর মতো কেঁদে ফেলেন।
ভালো নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ
কান্নার মাঝেও ওই কর্মকর্তা তরুণকে আলগা করেননি, বরং তাঁকে শক্ত করে ধরে রেখে সাহস জোগাতে থাকেন। কোনো দীর্ঘ বক্তৃতার প্রয়োজন পড়েনি; ওই সাধারণ আলিঙ্গনটিই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে কঠিন সামরিক পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক নরম মানবিক মন।
ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই তা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা ওই কর্মকর্তার সংবেদনশীলতা এবং তাঁর এই গভীর অর্থবহ মানবিক গুণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।