দুই পিএইচডি ও এমবিএ ডিগ্রি পকেটে! ৫৬ বছর বয়সে ডাক্তার হওয়ার জেদ নজির গড়ল তামিলনাড়ুর সুরেশের

বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা, তা ফের প্রমাণ করলেন তামিলনাড়ুর এ. সুরেশ কুমার। দুটি পিএইচডি এবং একটি এমবিএ ডিগ্রি থাকার পরেও ডাক্তার হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছেটা দমিয়ে রাখেননি তিনি। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলে তিনি নিট (NEET UG) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং নাগাপত্তনম সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর এই অদম্য জেদ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

শিক্ষাগত সফলতার লম্বা পথ
১৯৯২ সালে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পর থেকেই চিকিৎসাবিদ্যায় ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন সুরেশ। কিন্তু তৎকালীন পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সেসময় তাঁর পক্ষে এমবিবিএস করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে ফার্মেসিতে কর্মজীবন শুরু করলেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। এর জেরে একে একে তিনি অর্জন করেন বিবিএ, এমবিএ এবং দুটি পিএইচডি ডিগ্রি। পেশাগত জীবনে তিনি ডায়াগনস্টিকস খাতের একটি উচ্চ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।

রাতের পড়াশোনা আর কঠিন রুটিন
যখন নিট পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হয়, তখনই নিজের বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের তাগিদ অনুভব করেন সুরেশ। কিন্তু পূর্ণকালীন চাকরি সামলে প্রস্তুতি নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তিনি বেছে নেন কঠিন এক রুটিন। সারাদিন কাজের ঝক্কি সামলে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একটানা পড়াশোনা করতেন তিনি। এমনকি ছেলেকে বায়োলজি পড়ানোর সময় নিজের প্রস্তুতিও ঝালিয়ে নিতেন। এই কঠিন যাত্রায় তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছায়ার মতো সাহায্য করে গেছেন।

বিশেষ কোটায় এমবিবিএস-এ ভর্তি
নিট পরীক্ষায় ৭২০ নম্বরের মধ্যে ১৯২ নম্বর পান সুরেশ কুমার। অতীতে একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়ায় তিনি বিশেষ কোটার সুবিধা পান। এই কোটার মাধ্যমেই নাগাপত্তনম সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ার আসন নিশ্চিত করেন তিনি। এখন নিজের থেকে বহু ছোট সহপাঠীদের সঙ্গে ক্লাসে বসবেন তিনি। ডিগ্রি অর্জনের পর প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান এই জেদি মানুষটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *