বঙ্গে প্রথমবার চালু আয়ুষ্মান ভারত! ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসায় আর কী কী মিলবে?

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বাংলার মাটিতে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের মেগা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ চালু হচ্ছে। ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ রবিবার ১৬ আগস্ট রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালিত হবে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার থেকেই শুরু কার্ড বিলি

প্রকল্প চালুর দিনেই অর্থাৎ রবিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে উপভোক্তাদের হাতে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে যাঁরা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতার বাইরে থেকে যাবেন, তাঁদের জন্য একই সঙ্গে চালু হচ্ছে পৃথক ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’। ফলে রাজ্যের কোনো নাগরিকই স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাইরে থাকবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমেও যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন এবং কার্ডের জন্য কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না।

কারা এবং কীভাবে পাবেন এই সুবিধা?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষ সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধার আওতায় আসছেন। পাশাপাশি, প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবে। বাংলার প্রায় ১,৯৩০টি হাসপাতাল—যার মধ্যে ৬২৭টি সরকারি এবং ১,৩০৩টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে—এই স্বাস্থ্যবিমার অধীনে চিকিৎসা পরিষেবা দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা রাখতে এবং বিল কারচুপি বা বহিরাগতদের অপব্যবহার রুখতে কড়া নজরদারি ও ফিল্ড ভেরিফিকেশনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ভবিষ্যৎ কী?

জনমানসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল জনপ্রিয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প কি তবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? এই বিষয়ে সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আপাতত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আগের মতোই সমান্তরালভাবে চালু থাকবে। নতুন প্রকল্পের কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত উপভোক্তারা পুরনো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করেই চিকিৎসা পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবেন, যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো রকম হয়রানির মুখে পড়তে না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *