‘ভারতের উপর লক্ষ্য…’, হঠাৎ মার্কিন রাডারে সরাসরি INDIA-র নাম, কী ব্যাপার?

রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন এক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে নয়াদিল্লি। চিনের উপর মার্কিন শুল্কের খাঁড়া এড়াতে ঘুরপথে আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করার অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং একটি নতুন হোয়াইট হাউস রিপোর্টের জেরে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা ও উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে।
কী এই ‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ বা গোপন বাণিজ্যের ফাঁদ?
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বেজিংয়ের উপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপানোর পর থেকেই চিনা সংস্থাগুলি সেই ট্যাক্স এড়ানোর ফন্দিফিকির খুঁজছে। সেই কৌশল অনুযায়ী, সরাসরি চিন থেকে পণ্য আমেরিকায় না পাঠিয়ে সেগুলিকে প্রথমে অন্য কোনো রাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে সামান্য প্যাকেজিং বদল, লেবেল পরিবর্তন বা নামমাত্র প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সেই পণ্যগুলোকে অন্য দেশের তৈরি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পরিভাষায় একেই ‘শ্যাডো ট্রান্স-শিপমেন্ট’ বলা হচ্ছে। এই জালিয়াতির ফলে আমেরিকা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রকাশিত হোয়াইট হাউস রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘোরানো হয়েছে। মার্কিন রাডারে শুধু ভারত নয়, বরং কানাডা, মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিশ্বের প্রায় ৪০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ রয়েছে।
ভারতের কোন কোন অঞ্চলের নাম জড়াল?
মার্কিন প্রতিবেদনে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল যেমন গুজরাত, চেন্নাই এবং পুণের মতো শহরগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমস্ত অঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট শিল্প পরিকাঠামো বা উৎপাদন কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন পক্ষ। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই শহরগুলির সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই বেআইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত সম্ভাব্য বাণিজ্যপথ এবং পণ্যের উৎস লুকিয়ে ফন্দি আঁটার প্রবণতাকেই নজরে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে পণ্যের আসল উৎস বা ‘রুলস অফ অরিজিন’ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে দ্বিমুখী চাপ
চিন সংক্রান্ত এই বাণিজ্য বিতর্কের পাশাপাশি ভারতের বৈদেশিক নীতির ওপর বরাবরই চাপ বজায় রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মস্কোর যুদ্ধ ফান্ডে আঘাত হানতে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের অস্বস্তি দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট তেল আমদানির অর্ধেকের বেশি আসছে রাশিয়া থেকেই। এই কারণে মার্কিন সেনেটে রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে আমেরিকার শুল্ক সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং অন্যদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বজায় রেখে বৈদেশিক বাণিজ্য সামলানোই এখন নয়াদিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।