এফ-১৬ দিয়ে বেলুচিস্তানে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ! মার্কিন নীরবতায় ফুঁসছেন ট্রাম্প, আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সামরিক নৃশংসতার ঘটনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি মার্কিন নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর চালানো হামলায় অন্তত ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী ও শিশুসহ নিরীহ মানুষের প্রাণহানির এই ঘটনায় ওয়াশিংটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীরবতায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এফ-১৬ হামলায় বেলুচিস্তানে রক্তগঙ্গা
বেলুচ সংগঠনগুলোর দাবি, সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে যে সামরিক শক্তি ও আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে, তার অপব্যবহার করা হচ্ছে বেলুচ জনগণের ওপর। খাইবার পাখতুনখাওয়ার পর এবার বেলুচিস্তানেও একই ধাঁচে এফ-১৬ বিমানের ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। হামলায় নিহতদের ভয়াবহ ছবি গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বেলুচ নেতাদের ৪টি কড়া দাবি
এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলুচ নেতা মীর ইয়ার বেলুচ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের কাছে বেলুচ নেতৃত্বের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট:
১. সামরিক সহায়তা স্থগিত: পাকিস্তানকে দেওয়া সমস্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তার অবিলম্বে পর্যালোচনা ও স্থগিতাদেশ প্রয়োজন।
২. এফ-১৬ সহায়তা বন্ধ: পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বহরের ইঞ্জিন সহায়তা, আপগ্রেড বা প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
৩. জবাবদিহিতা: বেলুচ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের জন্য পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
৪. সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক ঘোষণা: পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্ব হস্তক্ষেপের ডাক
শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বেলুচ নেতৃত্ব এখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক আদালত ও বিভিন্ন মানবাধিকার ফোরামে বেলুচিস্তানের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, আফগানিস্তান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
বেলুচ নেতাদের মতে, পাকিস্তানের সামরিক অবকাঠামোর একটি বড় অংশ যেহেতু মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর, তাই হোয়াইট হাউস চাইলেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও এফ-১৬ ব্যবহারের এই ‘খুনে’ নীতি দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকে, নাকি মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বিশ্ব মঞ্চে এখন নজর সবার, হোয়াইট হাউস কি সত্যিই পাকিস্তান-নীতি বদলাবে?