অবৈধ স্পিড ব্রেকারে তরুণের মৃত্যু, প্রমাণ লোপাটে মরিয়া পৌরসভা! আরটিআই-এর জবাবে যা জানাল গাজিয়াবাদ

গাজিয়াবাদের রাজেন্দ্র নগরে একটি কথিত ‘অবৈধ’ স্পিড ব্রেকারের বলি হতে হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী রাহুলকে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর গাজিয়াবাদ পৌরসভা যে ভূমিকা নিয়েছে, তা কার্যত প্রশাসন ও আরটিআই-এর (RTI) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মকে চরম উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার দায়ভার ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের নথি চেয়ে আরটিআই করা হলে, পৌরসভা সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি নেই।
পৌরসভার দ্বিমুখী অবস্থান
অথচ, অদ্ভুতভাবে অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে পৌরসভা স্বীকার করে নিয়েছে যে, দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই রাস্তাটি গাজিয়াবাদ পৌর কর্পোরেশনেরই আওতাধীন। প্রশ্ন উঠছে, রাস্তাটি যদি পৌরসভারই হয়, তবে তার ওপর নির্মিত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের ও নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? স্পিড ব্রেকারটি যদি পৌরসভা তৈরি না-ই করে থাকে, তবে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাস্তার ওপর এমন প্রাণঘাতী কাঠামো তৈরিতে কেন বাধা দেওয়া হলো না? এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই গাজিয়াবাদ পৌরসভা বা তার কর্মকর্তাদের। তাহলে কেন তারা আরটিআই-এর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে?
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ
পুরো ঘটনাটি স্থানীয় আরডব্লিউএ (RWA) এবং পৌর কর্মকর্তাদের এক গভীর যোগসাজশের ফল বলেই মনে করছে নিহতের পরিবার। ৬ই জুন রাতের সেই দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় প্রমাণ লোপাটের হিড়িক। রাতারাতি রাস্তা থেকে অবৈধ স্পিড ব্রেকারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই এর ধ্বংসাবশেষও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, স্পিড ব্রেকার ও দুর্ঘটনার মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজও আশ্চর্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। স্পিড ব্রেকারটি যদি নিয়ম মেনেই তৈরি হতো, তবে দুর্ঘটনার পর তা সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন পড়ল কেন?
বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতা
জিএমসি কমিশনার প্রথমে স্বীকার করেছিলেন যে, রাজেন্দ্র নগর সোসাইটির অনুরোধেই স্পিড ব্রেকারটি তৈরি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, আজ পর্যন্ত কেন কোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? নিহতের পরিবার মৃত্যুর খবর জানানোর পরও কেন নীরব পৌরসভা?
পৌরসভার এই দায়সারা আচরণ এবং তথ্য লুকানোর প্রবণতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তায় কীভাবে এমন মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি হলো এবং কারা এর নেপথ্যে মদত দিচ্ছে, তার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন রাহুলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা। গাজিয়াবাদ পৌরসভা কি এবার দায় স্বীকার করবে, নাকি আরটিআই-এর মতো আইনি অস্ত্রকেও তারা গুরুত্বহীন করে তুলবে? উত্তর খুঁজছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।